হাংরিয়ালিস্ট লেখালেখির সাথে আমার সম্পর্ক মূলত : গভীর বিবিক্তার

নন্দিনী ধর

কয়েক সপ্তাহ আগে, ইংরাজি অনলাইন পত্রিকা ‘‘কাফে ডিসেনসাস’’-এ হাংরি আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি কথা লিখেছিলাম। যদিও লিঙ্গ সে লেখার একমাত্র পঠিতব্য বিষয় একদমই ছিল না, হাংরি আন্দোলনের কবিতার অন্তর্গত লিঙ্গ মতাদর্শ একটা বড়ো জায়গা জুড়ে ছিল সে লেখায়। লেখাটি পড়ে আমার থেকে বয়সে ছোট এক বান্ধবী একটি কথা জানায় আমায়। তার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড়ো একটি সময় নাকি কেটেছে এক ধরণের ভয়মিশ্রিত দ্বিধায়। ফাল্গুনী রায়ের কবিতা ভালো লাগে না, ফাল্গুনী রায়ের কবিতার ছত্রে ছত্রে সে অতীব সমস্যাজনক পিতৃতান্ত্রিকতার ছোঁয়া খুঁজে পায়।কিন্তু, ঠিক জোর গলায় বলে উঠতে পারেনি এই কথাটি তার অধিকাংশ বন্ধুদের। আমার এই লেখাটি আমার সেই বান্ধবীর জন্য। তার মতো আরও অনেক ছেলেমেয়েদের জন্য। কারণ, এই ভয়ের, এই দ্বিধার স্বরূপ ও প্রকৃতি যে আমারও বড়োই চেনা।

‘‘চন্দ্রগ্রহণ’’ পত্রিকাটির বসন্ত সংখ্যা ২০১৫-র সংখ্যাটিকে বলা যেতে পারে ফাল্গুনী রায় বিশেষ সংখ্যা। ফাল্গুনী রায়, বাংলা সাহিত্যে যাঁরা হাংরি কবি বলে পরিচিত ছিলেন, তাঁদের অন্যতম। তাঁর মৃত্যু হয় অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সে, আরও অনেক হাংরি বলে পরিচিত কবিদের মতোই বোধহয়। তো, এহেন ফাল্গুনী রায়ের কবিতার সমালোচনা লিখতে গিয়ে জনৈকা শুভশ্রী দাস লিখলেন, ‘‘মফস্বলের কলেজের সাহিত্য স্নাতক আমি কলকাতার স্নাতকোত্তরে আসার আগে ‘হাংরি জেনারেশন’ বা তাদের আন্দোলনের সম্পর্কে কণামাত্রও অবগত ছিলাম না। একেবারে সম্প্রতিক কালেও কলকাতার সাহিত্যমহলে হাংরি যে খুব সোয়াস্তিদায়ক একটি বিষয় নয়, তা বুঝতে সময় লাগে না।’’ তো, বলতে বাধা নেই, আমার অবস্থান শুভশ্রীর ঠিক বিপরীতে। অর্থাৎ, ছোটোবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠার মধ্যে হাংরি জেনারেশনের কবিতা বা লেখালেখি অচ্ছুৎ তো ছিলই না, বরং ঠিক বিপরীত ব্যাপারটিই ছিল তুলনামূলকভাবে সত্য।

Continue reading