স্কুলবেল

চন্দন কুমার চৌধুরী 

কাঁচের কফিনে শুয়ে ফুলের মালা পরে সামনে সামনে অনন্ত এগিয়ে যাচ্ছে আর পেছন পেছন গাড়িতে ওরা চারজন অনুসরণ করে যাচ্ছে। চিরকালের ব্যস্তবাগীশ মানুষ। সব কিছুতেই তাড়া। যাবার জন্যও তাড়া। সাত্যকি অনেকক্ষন ধরে অনন্তর সেই ক্লাস সিক্সে পড়া মুখটা মনে করার চেষ্টা করছিল। খুব আবছা একটা মুখ মনে পড়ছে। টিফিন পিরিয়ড শেষ হবার ঘন্টা পড়ছে। একটা ছোট-খাটো চেহারার ছেলে স্কুল ড্রেস পড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে সিঁড়ি ভাঙছে, ভীষণ তাড়া যেন ক্লাসে পৌঁছবার। তার পেছন পেছন সাত্যকি। স্কুলবেলটা বাজছে; ঢং…ঢং…ঢং।

সাত্যকির মতো অনন্ত অন্য স্কুল থেকে এসে ভর্তি হয়েছিল হেয়ার স্কুলে। এ স্কুলে ক্লাস ফাইভ অবধি মর্নিং ক্লাস। যারা ওয়ান থেকে পড়েছে তারা আছে ‘এ’ আর ‘বি’ সেকশনে। ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়া নতুন ছেলেরা সব ‘সি’ সেকশনে। সে সময়ের নামী স্কুল – চান্স পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। বলতে গেলে বাংলা তথা ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরোনো দুটো স্কুলের একটা। ১৮১৮ তে ডেভিড হেয়ারের প্রতিষ্ঠা করা। আরেকটা, ১৮১৭ তে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু কলেজের ভগ্নাংশ বলা যায় – হিন্দু স্কুল। ট্রাম রাস্তার এপার ওপার। ভর্তি হয়ে প্রথম প্রথম স্কুলবাড়িটাকে সাত্যকি সম্মোহিতের মতো দেখত। মস্ত খিলানওয়ালা বাড়ি। মোটা মোটা থাম, চওড়া টানা অলিন্দ, বাইরে চওড়া কার্নিস। নিচের দুটো তলার উঁচু ছাত, দু-মানুষ সমান খড়খড়িওয়ালা সবুজরঙা দরজা। উঁচু ছাতের সারিসারি কড়িকাঠ থেকে ঝুলতো লম্বা রড লাগানো পাখা। যেগুলো এককালে ডিসি পাখা ছিল কনভার্টর লাগিয়ে এসি পাখা করা হয়েছে। একতলাটা অবশ্য খানিকটা চাপা লাগে। দালানের থামগুলোকে জুড়ে রেখেছে পঁয়ষট্টির যুদ্ধের সময় বানানো ব্যাফেল ওয়াল, খোলামেলা ভাবটাকে ব্যাহত করে। স্কুলবিল্ডিং এর কোলাপসিবল গেটের ঠিক সামনেও একটা চওড়া ব্যাফেল ওয়াল। ক্লাস সিক্সের তিনটে সেকশনই ছিল তিনতলায়। ছিল লাইব্ররী, ল্যাবরেটরী। একতলা আর দোতলার সাথে তিনতলার স্থাপত্যের বাইরে বাইরে মিল থাকলেও ভেতরে ভেতরে অমিল ছিল অনেকটাই। তিনতলাটা অনেকটাই আধুনিক।

ক্লাসগুলোতে ওপরে নিচে করে লাগানো দুটো করে ব্ল্যাকবোর্ড। নিচেরটায় লিখতে লিখতে ভরে গেলে ঠেলে ওপরে তুলে দিলেই ওপরেরটা নিচে নেমে আসে। সাত্যকি এমনটা আগে কখনো দেখেনি। কুমারবাবু ছিলেন ক্লাসটিচার। উঁচু ক্লাসে ইকোনমিক্স পড়াতেন। অথচ ইংরেজীটাও এতো সুন্দর পড়াতেন। সাত্যকির ইংরেজীর জ্ঞানের অনেকটাই ওঁর অবদান। গল্পের মতো করে ইতিহাস পড়াতেন অসীমবাবু, যিনি উঁচু ক্লাসে পড়াতেন ইংরেজী সাহিত্য। গীতাদি ছিলেন লাইব্রেরিয়ান। অসংখ্য বইএর ভান্ডার ছিল গীতাদির হাতে। সাত্যকির ওই বয়সে বইপড়ার একটা অসম্ভব নেশা ছিল। বাড়িতেও দাদুর আমলের দু আলমারী বই ছিল। তাতে রামকৃষ্ণ কথামৃত, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ, রাজযোগ, উপনিষদ, অসামান্যার কথা, সীবন-শিক্ষা, স্বয়ংসিদ্ধা সবই ছিল। বুঝুক না বুঝুক গোগ্রাসে পড়ে ফেলতো। ম্যাকবেথ, মার্চেন্ট অফ ভেনিস অনুবাদও পড়া হয়ে গিয়েছিল। দিদির এম.এ. ক্লাসের পাঠ্য পলিটিক্যাল সায়েন্সের কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো, ডায়লেক্টিকাল মেটিরিয়ালিজম, ইম্পেরিয়ালিজম হাইয়েস্ট ফর্ম অফ ক্যাপিটালিজম, এগুলোতে তখনই দাঁত ফোটাতে না পারলেও পরে নিজে উঁচু ক্লাসে উঠে পড়েছে। পাঠ্য বইও একই আগ্রহ নিয়ে পড়ত। সব মিলিয়ে হাফ-ইয়ার্লির রেজাল্টে দেখা গেল সাত্যকি সেকেন্ড হয়েছে।

‘এ’ সেকশন আর ‘বি’ সেকশনের ছেলেরা ‘সি’ সেকশনের ছেলেদের অবজ্ঞার চোখেই দেখত, যেমন বনেদীবাবুরা উঠতি বড়লোকেদের নিচু নজরে দেখে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধৃষ্ট বালকটিকে চাক্ষুষভাবে দেখতে এলো ‘বি’ সেকশনের সোমনাথ আর কৃষ্ণেন্দু। ওদের উদ্দশ্য যে ভালো নয় বুঝতে পেরে অনন্ত, স্বপন, সমীর, পবিত্ররা সাত্যকির গা ঘেঁসে দাঁড়ালো। ছোটবেলার এই বৈরিতা চিরস্থায়ী হয়নি, ওরাই পরে একসময় গভীর বন্ধু হয়ে গিয়েছিল। অ্যানুয়াল পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে আগেকার ফার্স্ট বয় অমিতাভ এসে আলাপ করে গেল।

লোহার ট্রের ওপর শুয়ে অনন্ত ভেতরে ঢুকে গেল। ঢোকাবার আগে ছোট লোহার দরজাটা খোলায় চোখে পড়ছিল ভেতরের কয়েলগুলো আগুন লাল হয়ে শরীরটার অপেক্ষায় আছে। ক্রিমেটোরিয়ামের লোকটা লিভারটা তুলতে শুরু করতেই ট্রে সহ শরীরটা রেল বেয়ে সাঁত করে ভেতরে ঢুকে গেল। ঢুকতে ঢুকতেই পায়ের দিকের ধুতিটা পট্ পট্ শব্দ করে জ্বলে উঠল। ডোমছেলেটি ঘটাং করে লোহার দরজাটা বন্ধ করে দিল। সাত্যকি, অনন্ত, স্বপন, শ্যামল, আদিত্যরা একসাথে তো কম মড়া পোড়ায়নি নিমতলা ঘাটে। অনন্তই গুনতো, ক’টা হলো। শেষ অবধি কতোতে থেমেছিল এখন আর মনেই পড়ে না।

সেটা বোধহয় ক্লাস সেভেন। বিনয়বাবুর ক্লাস। কড়া টিচার। ইংরেজী পড়াতেন। কানে কম শুনতেন, কানে একটা মেসিন লাগানো থাকতো। সেটা থেকে তার বেরিয়ে পাঞ্জাবির বুক পকেটে ঢোকানো থাকতো। ক্লাসের ছেলেরা কি করে যেন আবিস্কার করে ফেলেছিল যন্ত্রটার ব্যাটারী শেষ হয়ে এলে বিনয়বাবু আর বিশেষ শুনতে পান না। তখন ক’দিন নড়াচড়া না করেও সারা ক্লাস মেছো বাজার হয়ে যেতো। স্যার দিব্যি পড়িয়ে যাচ্ছেন, আশেপাশের ক্লাস থেকে স্যারেরা এসে উঁকি মেরে দেখে যাচ্ছেন, কিন্তু বিনয়বাবু সিনিয়ার মানুষ তাঁকে কেউ ডেকে বলতে পারছে না। কিন্তু একবার পালে বাঘ পড়ল বৈকি। স্যার যে কবে নতুন ব্যাটারী বদলেছেন বুঝতে পারেনি ছেলেরা। ধরা পড়ল সাত্যকিসহ বেশ ক’জন। ডাস্টারের কয়েক ঘা ছাড়াও এক সপ্তাহ বিনয়বাবুর ক্লাসে দরজার সামনে কান ধরে নীল-ডাউন হয়ে থাকার শাস্তি জুটল। জীবনে সেই প্রথম নীল-ডাউন হওয়া। সিক্স থেকে সেভেনে উঠেছে ফার্স্ট হয়ে। আর সেই ফার্স্টবয় কিনা কান ধরে নীল-ডাউন! সব স্যারেরা আসতে যেতে দেখছেন। লজ্জায় চোখ ফেটে জল আসছে। ভালো ছেলের এই পরিণতি! এই বদমায়েসি করার জন্য বেশ অনুশোচনা হচ্ছে। নীল-ডাউন হয়ে স্বপনও লজ্জিত। শুধু অনন্তই নির্বিকার। ও এমন শাস্তি অনেক পেয়েছে, এসব ছোটখাটো ব্যাপারকে সিরিয়াসলি নেবার কোনো মানেই হয় না। অনন্তর পাশে নীল-ডাউন থাকতে থাকতে মোটামুটি তিনদিনেই অনুশোচনা, লজ্জা দুটোই বেশ কমে গেলো। ভাবতে গেলে ওই বয়সেই অনন্ত একটা বিশাল শিক্ষা দিয়েছিল। জীবনকে বেশি সিরিয়াসলি নিতে নেই। বিশেষকরে দুঃখগুলোকে। আর অনন্ত তো পুরো জীবনটাকেই সিরিয়াসলি নিলো না, দিব্যি কেমন একা একাই চলে গেলো। সবাই একা যায় তবুও কেউ না কেউ তার জন্য কাঁদে, হাহাকার করে, কেউ না কেউ আগলে রেখে বলে ‘যেতে দেব না’। জীবনের শেষে অনন্তর তেমন কেউ নেই। অনন্ত যেন তৈরী হয়েই ছিল। একপায়ে খাড়া। যেন পায়ে চটিটা গলিয়ে বলবে, ‘চ, চ, বেরিয়ে পড়ি’। এই শেষ যাত্রার সঙ্গী শুধু সাত্যকি, স্বপন, স্বপনের ছেলে আর ওর কলেজ জীবনের বন্ধু সুরজিত।
আর সেই শুরু হলো অনন্তর সাথে আসল বন্ধুত্ব। শুরু হলো সাত্যকির ভালো ছেলের খোলোস ছাড়ার পালা। পড়াশোনার বাইরেও যে বিশাল একটা নিষিদ্ধ জগত আছে তার জ্ঞান আহরণটাও তো আরেক রকম জানা। বালক সর্বস্ব বিদ্যালয় আবহে ধারণা তো সব আধো-আধো । স্কুল ছুটির পর পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে যোগাড় করা চটি চটি বই লুকিয়ে লুকিয়ে বেকার ল্যাবরেটরীর সিঁড়িতে বসে কাড়াকাড়ি করে পড়া। স্বপন আবার নেবুতলার ছেলে। তার পাড়াতুতো জ্ঞানও কিছু কম নয়। কোথায় কোথায় উঁকি মেরে মেয়েদের শরীর সম্পর্কে কি কি সব জেনে ফেলেছে তা বাকি বন্ধুরা হাঁ করে শোনে। নিজের শরীরেও মজা আবিস্কার করা যায় সে জ্ঞানও ওর কাছেই জানা। ক্লাসের সব ছেলের এসব জ্ঞানলিপ্সা নেই, তাদের কৌতূহল পাঠ্য বইতেই সীমাবদ্ধ। তারাও অবশ্য সাত্যকিদের বন্ধু। বিপ্লবের বাবা সে আমলের বিখ্যাত অঙ্কোলজিস্ট। ওরা জানতো ক্যান্সারের ডাক্তার বলে। কিছুদিন রোজ ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অস্টিন গাড়িটা স্কুলেই পার্ক করে মেডিক্যাল কলেজে যেতেন ক্লাস নিতে। গাড়ির চাবিটা থাকতো বিপ্লবের কাছে। টিফিন পিরিয়ডে একটা মস্ত মজার খেলা শুরু হলো। বিপ্লব গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে থাকতো, পালা করে ক’জন ভেতরে বসতো আর বাকিরা পেছন থেকে ঠেলে খানিক দূর এগিয়ে আনতো আবার ঠেলে পিছিয়ে নিয়ে যেতো। দারোয়ানজী রামধনি দেখতে পেলেই মোটা শরীর নিয়ে হাঁই হাঁই করে ছুটে আসতো। ভোজপুরি আর বাংলা মিশিয়ে ভয় দেখাতো বাবু এলে বলে দেবে। কিন্তু কেন কে জানে শেষ অবধি বলতো না। তাই যতোদিন পর্যন্ত বিপ্লবের বাবা মেডিক্যাল কলেজে পড়াতে আসতেন ততোদিন খেলাটা অব্যাহত ছিল।

“কাকু, চলুন চা খেয়ে আসি এখন তো ঘন্টা দুয়েক সময় লাগবে।” কথাটা শুনে সম্বিত ফিরল সাত্যকির। স্বপনের ছেলে ডাকছে। চারজনে চায়ের দোকানের দিকে হাঁটছে। টুকরো টাকরা কথা চলছে। কর্পোরেশনের ডেথ সারটিফিকেট পেতে দিন তিনেক লাগবে। চায়ে চুমুক দিয়ে সুরজিত বলল, “কি হলো, তুমি যে একেবারে থম্ মেরে গেলে। আরে, সবাইকেই তো একদিন যেতে হবে।”

মনে মনে একটু বিরক্ত হলো সাত্যকি। বয়স বাড়লে সহনশীলতা বাড়ে। কম বয়সে বলেই দিত, ‘বাপু হে, আমি, অনন্ত বা স্বপন যতো মৃত্যু আর মৃতদেহ দেখেছি তুমি হয়ত তার সিকিভাগও দেখোনি’। ক্লাস টেনে উঠতেই ওরা লায়েক হয়ে গিয়েছিল, ইলেভেনে উঠে তো আরো বেশি। সে সময় মধ্যবিত্ত সমাজে ওদের বয়সী ছেলেরা একটু আধটু সমাজ করলে সেটা বাবা-মা’রা খুব আপত্তিজনক ভাবতেন না। ওরাও সবাই সমাজ সেবায় মেতে উঠেছিল। কার বাড়িতে কে মারা গেল, তাদের বাড়িতে লোকাভাব। ওরা সবাই কোমরে গামছা বেঁধে হাজির। হৈ হৈ করে খাটিয়া কাঁধে নিমতলা ঘাট। ডোমেদের হাত থেকে বাঁশ নিয়ে নিজেরাই সন্তর্পনে মড়ার খুলি ভাঙ্গার কায়দা শিখে গিয়েছিলো যাতে দুম করে হঠাৎ না ফাটে। অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার নিয়ম-কানুন সব মুখস্ত। নিমতলার বাইরে সার সার কচুরী, মিষ্টি, চায়ের দোকান। শ্মশানযাত্রীদের খাওয়ানো তো মৃতের আত্মীয়জনের অবশ্য কর্তব্য। নিভন্ত চিতায় জল ঢেলে কলসী ভেঙ্গে ফেরা। মৃতের বাড়িতে আগুন ছুঁয়ে, নিমপাতা দাঁতে কেটে, মিছরী দানা মুখে দিয়ে যে যার বাড়িমুখো। নিমতলা যেন মোহময়ীর মতো টানতো সাত্যকিদের। কতো সন্ধ্যেতে অকারণেই চলে যেত হাঁটতে হাঁটতে। চার পাঁচ কিলোমিটার হাঁটা কোনো ব্যাপার ছিল না। ওখানেই জেনেছিল হাত ফেরতা হয়ে আসা লাল ন্যাকড়া জড়ানো ছোট্ট মাটির ছিলিমে চোখ বুজে টান দিলে বিশ্বব্রহ্মান্ডের সব দার্শনিকতা আয়ত্তে এসে যায়। এ ছাড়াও ছিল কোন বিয়েবাড়িতে পরিবেশনের কাজ উৎরে দিতে হবে, কোন মেয়ের বিয়ের পিঁড়ি ধরতে হবে, কার কাকাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, রাত জাগতে হবে। বাবা-মা’রাও কিছু বলত না। এতো এতো ট্যুইশন তো ছিল না, মধ্যবিত্ত অভিভাবকরা সরল ছিল, ‘বন্ধুরা মিলে একসাথে পড়তে যাচ্ছি’ কথাটা বিশ্বাস করত।

এতোকাল পর নিমতলা ঘাটের চা’টা বিস্বাদ লাগছে। ভাঁড়টা নামিয়ে রেখে সাত্যকি বলল, “স্বপন, তোর মনে আছে একবার, বোধহয় সেটা ক্লাস সিক্স হবে, আমাদের রমেশ দত্ত হাউসের সাথে তোদের দেবপ্রসাদ হাউসের ক্রিকেট হচ্ছিল, বলটা উড়ে গিয়ে ডেভিড হেয়ারের স্ট্যাচুর নিচে চলে গিয়েছিল। বল খুঁজতে গিয়ে আমরা প্রথম ব্যাঙ দেখেছিলাম। আমরা বুঝতেই পারছিলাম না ওটা কি, শুধু বিকাশের বাড়ি বিরাটি ছিল বলে, ও ব্যাঙ চিনত। অনন্ত কেমন ব্যাঙটার পা ধরে দিব্যি বার করে এনেছিল। ওর একদম ভয়-ডর ছিল না।”

স্বপন কিছুতেই মনে করতে পারলো না। আজকাল স্বপন মনে রাখতে পারে না। সাত্যকিও ভোলে, তবে সেসব সাম্প্রতিক ঘটনা। অতি পুরোনো অনেক ঘটনা এখনো চোখের সামনে দেখতে পায়।

স্বপনের কাছে যখন অনন্ত, সাত্যকিরা জীবনের নানা পাঠ নিতে শুরু করেছে তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া বেশ গরম। উত্তাপ কলেজ স্ট্রীট পাড়াতেও বাড়ছে। গায়ে গায়ে লেগে থাকা প্রেসিডেন্সি কলেজে রোজ কিছু না কিছু ঘটছেই। মাঝে কিছুদিন ধরে চললো প্রিন্সিপালকে ঘেরাও। নক্সালবাড়ি, খড়িবাড়ির নাম ঘন ঘন শোনা যায়। প্রেসিডেন্সিতে মুখটা বাঁকামতো একটা দাদাকে দেখা যায় অন্য দাদাগুলোর নেতৃত্ব করতে। সবাই তাকে ‘কাকা’ বলে ডাকে। স্কুলের টানা চওড়া অলিন্দ থেকে বেলা বাড়লেই দেখা যায় খন্ডযুদ্ধ চলছে। কলেজের রেলিং টপকে দাদারা ইঁট মারছে পুলিশকে। সাত্যকিরা এ দৃশ্য দেখে দারুণ মজা পেত। দাদাদের ইশারা করত পুলিশ কোথায় আছে। ছেলেরা বাথরুম যাবো বলে বেরিয়ে এসব দেখত। স্যারেরা ধমক দিয়ে ছেলেদের ক্লাসে ঢোকাত। পুলিশ পিছোতে পিছোতে হ্যারিসন রোডে আর অন্যদিকে ইউনিভার্সিটির সামনে চলে যেত। নির্মিয়মান সেন্টিনারী বিল্ডিং এর নিচে যেসব দাদা-দিদিরা ঘনিষ্ঠ হয়ে অন্যদিন বসে থাকে তারাও থাকত না সেসব দিনে। তারপর এক সময় দলে দলে খাঁকি পোষাক পরা বেঁটে বন্দুকধারী পুলিশেরা ট্রাকে করে এসে নামতো। ধেয়ে আসত ইঁটে ছয়লাপ ট্রামরাস্তা ধরে। ওপরে তাক করে ছুড়ত কাঁদানে গ্যাসের সেল। সেলগুলো পড়ার পর ধীর গতিতে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ত। কখনো বা স্কুলের কার্নিসেও এসে পড়ত। সবার চোখ জ্বলতে শুরু করত। তারই মধ্যে দু একটা দাদা দৌড়ে এসে ধোঁয়াওঠা সেলগুলো তুলে পুলিশের দিকে ছুঁড়ে দিত। পুলিশ আবার পিছোত। চোখ জ্বলত সাত্যকিদেরও, ক্লাস বন্ধ হয়ে যেত। সুযোগবুঝে কাকা সবাইকে নিয়ে বেকার ল্যাবরেটরীর পেছন দিয়ে বেরিয়ে যেত। সহজে পুলিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকতো না। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ইঁটের টুকরো পেরিয়ে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছেলেগুলো হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরত। খরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা হেলমেট পরা পুলিশদের সামনে কালো প্যান্ট আর সাদা শার্টটাই রক্ষাকবচ।

এই বছরেই স্কুলের দেড়শো বছর হলো। সব ছাত্র ডেভিড হেয়ারের মুখওয়ালা মেটাল ব্রোচ পেল। স্কুলে এক্সিবিশন হলো, অনুষ্ঠান চলল ক’দিন ধরে, উঁচু ক্লাসের ছেলেরা বঙ্কিমচন্দ্র সাজলো, বিবেকানন্দ সাজলো, অনেক গন্যমান্য লোক এলেন। সাত্যকি খুব আশা করেছিল প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশনটাও হবে আর ও সবার সামনে ফার্স্ট প্রাইজটা নেবে। কিন্তু কেন কে জানে হলো না। সাত্যকি এই স্কুলে সিক্সে ভর্তি হবার আগে কলেজ স্কোয়ারের ওই পাশে সিটি স্কুলে পড়েছে দু’বছর, সেখানেও পরপর দু’বছর প্রথম হয়েছিল। সেখানেও দুছরে কোনো প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন হয়নি। সে প্রাইজও বাকি আছে। সেই থেকে সাত্যকির অভ্যেস হয়ে গেল জীবনের কাছে বেশি আশা না করার। আসলে পুরো অনুষ্ঠানে নিচু ক্লাসের ছেলেদের কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই আনল না। ওরা শুধু ভীড় বাড়ালো।

আজকাল সাত্যকিদের দলটার ফুটবল খেলায় ঝোঁক হয়েছে। তখনই জানল সেলাইয়ের কায়দা অনুযায়ী ফুটবলের নানা নাম হয়। বাড়িতে চেয়েচিন্তে পয়সা জোগাড় করে শেয়ালদার চোরবাজার থেকে একটা রাশিয়ান ফুটবলও কিনে ফেললো। পিটি ক্লাসের বাইরেও শুক্রবারে নামাজের জন্য দু পিরিয়ড ধরে টিফিন জুড়ে খেলা হতো, অন্যদিনগুলোতে ছুটির পর। ওদের সাথে উঁচু ক্লাসের ছেলেরাও খেলত। ইলেভেনের আলতাফদাও থাকতো, তার ছোটভাই মনসুরুল আবার সেভেন বিতে ছিল। আবার ক্লাস এইটের নাইম, রবীন্দ্র কাউ। সব মিলিয়ে মিশিয়ে খেলা হতো। সাত্যকি তখন সিমলা ব্যায়াম সমিতিতে যোগ দিয়েছে। শরীরে বাইসেপ ট্রাইসেপ বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বুকের পেশিও বেশ চোখে পড়ে। অন্য ছেলেরা ‘বুকফোলা’ বলে ক্ষেপানোর চেষ্টা করে। আলতাফের আবার স্টপার হিসাবে সাত্যকিকেই পছন্দ করে কারণ ওকে টপকাতে বিশাল চেহারার রবীন্দ্র কাউকেও বেগ পেতে হয়।

বাংলাটা টেক্সট বইটা এমনি পড়তে ভালো লাগে কিন্তু সত্যেনবাবুর ব্যাকরণটা একদম না। তার চাইতে সন্তোষবাবুর হিন্দি ক্লাসটা ভালো। সুনীলবাবুর ভূগোল ক্লাসটা তো অখাদ্য। আরেকটা ক্লাস খুব ভালো লাগতো, সেটা লালুবাবুর ড্রইং ক্লাস। বিখ্যাত চিত্রকার লালুপ্রসাদ সাউ। স্যার সব সময় খুব বিরক্তমুখে ক্লাস নিতেন। সাত্যকির ছবি আঁকতে ভালো লাগতো বলেই পুরো সপ্তাহ বুধবারের জন্য অপেক্ষা করে থাকতো। পরে বড় হয়ে বুঝেছে স্যারের মতো একজন আপাদমস্তক শিল্পরসিক মানুষকে ওই বয়সের একগাদা অমনোযোগী ছাত্রদের আঁকা শেখাতে হলে মুখ তো বেজার হবেই।

এই করতে করতে বছরটা শেষ হলো। ডিসেম্বরে রেজাল্ট বেরতে দেখা গেল এবার সাত্যকি চার নম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে। বয়সটা এমনই যে সাত্যকি তেমন কিছু দুঃখিত হলো না। পরের বছরটা তো আরো উত্তাল। স্কুলপাড়া রোজই রণক্ষেত্র। ব্রিগেডে সভা করে কানু সান্যাল সি.পি.আই. এম.এল. তৈরী করেছে। কাকাকে আজকাল দেখা যায় না, তার বদলে অন্য একদলকে নেতৃত্ব করতে দেখা যায়।

মনোযোগ তখন পড়াশোনার থেকেও বেশি অন্য নানা দিকে ছড়িয়েছিল। আজকাল সাত্যকি আর তথাকথিত ভালো ছেলেদের দলে পড়ে না। স্কুলে নানারকম দুষ্টুমিতে সামিল ছিল। ভূগোলের স্যার সুনীলবাবুকে রোজই ক্লাসে নাস্তানাবুদ করে। সবচেয়ে বড় দুষ্টুমি ছিল কার্নিসে পরে থাকা একটা ফেটে যাওয়া টিয়ারগ্যাস সেলের ভেতরে থাকা অবশিষ্ট কেমিক্যালের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিল স্যারের টেবিলে। বুদ্ধি করে ছড়িয়েছিল স্যারের মাথার ওপরের পাখাটা বন্ধ করে, স্যার এসে পাখা চালাতেই সেই সূক্ষ্ম গুঁড়ো উড়তে শুরু করল। প্রথমে তো স্যার তো কাঁদলেন, কিন্তু তারপর যেটা ভাবেইনি সেটাই হলো, পাখার হাওয়ায় উড়ে উড়ে সে গুঁড়ো সারা ক্লাসকেই কাঁদালো। সবার চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ছে। চোখ লাল। সেদিন আর ক্লাসই হলো না। তবে ক্লাসে ইউনিটি ছিল খুব; স্যারেরা অনেক জেরা করেও এর রহস্য উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনাটা মনে পড়তে সাত্যকি নিজের মনেই হাসল।

অন্য স্যারেরা সাত্যকিকে ভালো ছেলের দলে গণ্য না করলেও অসীমবাবুর ছিল এক অগাধ আস্থা। প্রায় জোর করেই ওয়াল ম্যাগাজিনের জন্য লিখিয়ে নিতেন লেখা, আঁকিয়ে নিতেন ছবি। আরেকজন ছিলেন কুমারবাবু, দেখা হলে অবলীলাক্রমে কানটা ধরেই কুশল সংবাদ নিতেন। কান ধরাটাই ছিল ওনার স্নেহের প্রকাশ। কোনোদিনই আত্মসম্মানে লাগেনি বরং ভালোই লাগতো। এমনকি ইঞ্জিনীয়ারিং পড়াকালীনও রাস্তায় ঘাটে দেখা হলে প্রণাম করলেই কান ধরেছেন।

এরই মধ্যে ফুটবল খেলার সময় বি সেকশনের আশীষ চার্জ করার আছিলায় দুম্ করে এক ঘুঁষি মেরে দিলো সাত্যকিকে। এ- সেকশনের রেফারী ফাউল দিয়ে ছেড়ে দিলো। আশীষ আসলে ওদের থেকে অনেকটাই বয়সে বড়। নানা ক্লাসে থমকে থমকে এ বছরই ওদের সহপাঠী হয়েছে। খুব মারকুটে ছেলে। এর আগেও পায়ে পা লাগিয়ে কয়েকবার মারপিট করার চেষ্টা করেছে। ওরা ঠিক করলো স্কুল ছুটির পর বাইরের অচেনা ছেলেদের দিয়ে ওকে মার খাওয়াতে হবে। অনন্তের মারপিট করতে পারা বন্ধু অনেক। যেদিন অনন্তর বন্ধুরা এলো সেদিন কাকতালীয়ভাবে আশীষ আসেনি। এ রকম বার কয়েক চেষ্টা করেও কোনো না কোনো কারণে ওকে মারা গেলো না। তারপর তো সে বছরই আবারও ফেল করায় আশীষকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হলো। প্রতিশোধ আর নেওয়া হলো না। তবে এসব করতে গিয়ে সাত্যকিদের রেজাল্টও খুব ভালো হলো না। কোনো রকমে সাইন্স পেলো ক্লাস নাইনে। বন্ধুদের কয়েকজন আর্টসে চলে গেলো।

তবে এ বছরটা তো উত্তাল। সত্তর দশকের শুরু। দেওয়ালে দেওয়ালে নিশুত রাতে কারা স্টেনসিলের ওপর আলকাতরা বুলিয়ে মাও সে তুং-এর টুপিপরা মুখ এঁকে যায়, ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ লেখে। লেখে বুর্জোয়া শিক্ষা ব্যাবস্থা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার কথা। সাত্যকির জ্যাঠামশাই এককালে ঠিক এই রকমই গান্ধীজীর আহ্বানে স্কুল ছেড়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সাত্যকির বাবাও স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন তবে অহিংস আন্দোলনের নয়, ছিলেন মাস্টারদার অনুগামী। হয়ত এইসব কারণেই এইসব দেখে সাত্যকি টানটান উত্তেজনা বোধ করত। হঠাতই একদিন ওদের ক্লাসেও কেউ আলকাতরায় মাও এর মুখ আঁকলো। স্যারেরা সবাই এসে দেখে গেলেন। কিন্তু কোনো হৈচৈ করলেন না। সময়টা ভালো নয়, আজকাল সবাই চুপচাপ থাকতে চায়। ইতিউতি মাঝে মধ্যেই খুন-টুন হয়। অনন্তর আজকাল ক্লাসের ছেলেদের ছাড়াও অনেক বন্ধু। ইলেভেন ক্লাসের ছেলেরাই বেশি বন্ধু। আরো কিছু বন্ধু জুটেছে তারা সব হিন্দু স্কুলের আর সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের। বোধহয় নিজের পাড়ার দিকেও কিছু রাজনৈতিক বন্ধু জুটেছে ওর। মাঝে মাঝে ক্লাসের শেষে খুব সিরিয়াস মুখে চারু মজুমদারের কথা বলে, মাও সেতুং, লেনিনের কথা বলে। শ্রেনীহীন সমাজ ব্যাবস্থার কথা বলে। মুক্তির দশকের কথা বলে। সাত্যকি, স্বপন, বিপ্লবরা অবাক হয়ে শুনতো। অনেকটাই ঠিক ঠিক বুঝে উঠতে পারতো না। তবু একটা রোমাঞ্চ, একটা টগবগানো উত্তেজনা অনুভব করতো। দেওয়ালে দেওয়ালে চিনের চেয়ারম্যানের ছবি। অনেক অচেনা নামে লাল সেলামের কথা। আজকাল অকারণে কেউ বেপাড়ায় যায় না। বিশেষতঃ সন্ধের পরে তো নয়ই। যারা যায় সবাই ফিরে আসে না। কাছাকাছি তিনটে নামকরা ভালো স্কুল, যেগুলোকে এতকাল শহরের আদর্শ স্কুল বলে লোকে জানত। কোনটাতেই আর শৃঙ্খলার বালাই বিশেষ নেই। আজকাল ছেলেরা দিব্যি বিনা ইউনিফর্মে স্কুলে আসে। বেশিরভাগ স্যারেরাই দেখেও দেখেন না। কুমারবাবু, অতীনবাবু, সুপ্রকাশবাবু, তারাপদবাবু এই রকম হাতেগোনা কয়েকজন স্যারই আছেন যারা বেয়াদপি দেখলে যে কোনো ছেলেরই কানমুলে ধমক দেন। এতো অবক্ষয়েও এটাই রজতরেখা যে অতি দুর্দান্ত ছেলেটিও স্যারেদের এই শাস্তিটুকু বিনা প্রতিবাদে মেনে নেয়। সব স্যার অবশ্য এতোটা সাহসী নন, এমনকি হেডস্যার কেশববাবুই সে সাহস পান না।

একদিন দুপুরে হিন্দু স্কুলের ছাতে লাল পতাকা তুলল কারা। তারপরই সি.আর.পি.এফ. ঢুকলো হিন্দু স্কুলে। একটি নিরীহ ছেলেকে করিডোরে বেধড়ক পেটালো। ছাত্রদের রাগ গিয়ে পড়ল হিন্দু স্কুলের হেডস্যারের ওপর, কেন উনি পুলিশকে ঢুকতে দিলেন। যেন উনি বারণ করলেই পুলিশ শুনতো! সপ্তাহ দুয়েক পরে একটু নজরদারী শিথিল হতেই হিন্দুস্কুলের হেডস্যারের ঘর ভাঙচুর হলো। হিন্দুস্কুলের ছেলেরা সামনে থাকলো না, করলো অন্য স্কুলের ছেলেরা। অনন্ত পরে বলেছিলো ওরা ঐ ঘরে আগুন লাগাতে চেয়েছিল, কিন্তু সব স্যারেরা যখন বলল ওঁদের চাকরী জীবনের সব রেকর্ড তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে, ওরা আর আগুন লাগায়নি।

একদিন হেয়ার স্কুলেও ভাঙচুর হলো। ততোদিনে রবীন্দ্রনাথকেও বুর্জোয়া কবি বলা হয়। তাই রবিঠাকুরের ছবিও ভাঙল। ভাঙাভাঙিতে হেয়ার স্কুলের ছেলেদেরও কেউ কেউও ছিল কিন্তু পুলিশের কাছে স্যারেরা বললেন সব বাইরের ছেলে ছিলো। আজকাল প্রায়ই ক্লাস হয় না। পুরো শহরেই থমথমে আবহাওয়া। মাঝেমাঝেই পুলিশ আর মিলিটারী মিলে একেকটা অঞ্চল কর্ডনিং করে তল্লাসি চালায়। স্কুল-কলেজের উঠতি বয়সী ছাত্রদের তুলে নিয়ে যায় থানায়। একবার ধরা পড়লে খুব কমই ছাড়া পায়। কিছুদিন আগেই তো সাত্যকিদের ক্লাসের সুমিত ট্য়ু‌শন নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। কর্ডনিং এ পড়ে গেল বেচারা। পুলিশ হাজতে থাকলো ক’দিন তারপর বেল পেলো। পরবর্তীকালে অবশ্য এই সুমিতই পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে চাকরী করেছে। রাতে কর্ডনিং হতে পারে গুজব শুনলে ওর বয়সী ছেলেদের মতো সাত্যকিও বাড়িতে রাত কাটায় না। আত্মীয়দের বাড়িতে রাতে আশ্রয় নেয়। সব আত্মীয় এসব ঝামেলায় জড়াতে চায় না। বিশ্বাস করতে পারে না উঠতি বয়সী ছেলেদের। সবাই নয়, অনেকে আবার স্নেহভরে দিনের পর দিন বাড়িতে রেখেছে। এরই মধ্যে ভবানী দত্ত লেনে এক ভোররাতে পুলিশ চারজন নক্সালপন্থী বন্দীকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে এসে গুলি করে মারলো। পরদিন সারা কলেজ স্ট্রীট উত্তাল। ইউনিভার্সিটির সামনে সেদিনই একজন ছাত্র মারা গেলো পুলিশের গুলিতে। দিন পনেরোর মধ্যেই ছাত্ররা দুপুরবেলা তার প্রতিবাদে ট্রামে আগুন দিলো। স্কুলের দোতলা থেকে সাত্যকির চোখে পড়েছিল সেই মারমুখী ছাত্রদের দলে মলোটোভ ককটেল হাতে অনন্তও ছিল। কয়েকদিন পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের লাইব্রেরিতে ভাঙচুর হলো।

আজকাল পড়াশোনার আবহাওয়াটাই আর নেই। হেয়ার স্কুল আর ইউনিভার্সিটির মাঝের প্যারীচরণ সরকার স্ট্রীটে অ্যাসবেস্ট‌স শীট ঢাকা বালির বস্তা দিয়ে বানানো বাঙ্কারে চব্বিশ ঘন্টা সি.আর.পি. এফ. রাইফেল নিয়ে পাহারা দেয়। একই রকমের আরেকটি বাঙ্কার উল্টোদিকে কলেজ স্কোয়ারের গেটের পাশে। এ চত্বরে এতোগুলো স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি, এতো এতো ছাত্র ছাত্রী, পুলিশ সর্বক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকে। স্কুলের মাঠে সারাটা সময়ই সাদাপোষাকের পুলিশ ঘুরে বেড়ায়। মাঝেমাঝে ক্লাসে ক্লাসে উঁকিও দেয়। তাদের কোমরে গোঁজা পিস্তলের বাঁট জামার তলায় উঁচু হয়ে থাকে। হেডস্যারের অনুমতির ধারই ধারে না। হাফ ডের বেশি ক্লাস হয় না। তবু তারই মধ্যে আরো একদিন স্কুলের ওপর থেকে বোমা পড়লো, তখনকার ভাষায় পেটো।

দৌড়োদৌড়ি শুরু হয়ে গেল। কারা যেন গেট টেনে বন্ধ করে দিয়েছে সবার অগোচরে। তার সামনে ডেস্ক লাগিয়ে ব্যারিকেড করে দিয়েছে। অনন্ত সেদিন স্কুলে আসেনি। অনন্তের উঁচু ক্লাসের বন্ধুরাই যে ব্যারিকেড বানিয়েছে তা সাত্যকির মতো অনেকেই দেখেছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। পুলিশেরও তো প্রাণের ভয় আছে। আরো ফোর্স আসার পর স্কুলে ঢুকলো। ক্লাসে ক্লাসে তল্লাসি চলল। নাম বের করার জন্য একেকজনকে ধরে ধমকানি চলল। প্রদীপ বলে ক্লাস টেনের একটি ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল।

স্কুল বন্ধ হয়ে গেল অনির্দিষ্টকালের জন্য। পরে শুনেছিলো সে রাতেই পুলিশ অনন্তসহ আরো কয়েকজনকে অ্যারেস্ট করেছিলো। বাবা-মা সাত্যকিকে আর কোলকাতার বাড়িতে রাখতে ভরসা পেলো না। সাত্যকির দাদাও অল্পবয়সী কিন্তু ব্যাঙ্ককর্মী তাই ভরসা। পুলিশের রাগ, সন্দেহ সবই বিশেষ করে ছাত্রদের ওপর। আত্মীয়সম একজনের দেশের বাড়ি বীরভূমের কীর্ণাহারের কাছে এক গ্রামে। বীরভূম তখনো শান্ত, তাই নিরাপদ আশ্রয়। সাত্যকির সেই প্রথম গ্রাম দেখা। তিন মাসের ওপর খুব কাছ থেকে দেখা বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামকে।

আবহাওয়া অনেকটাই শান্ত হলে তিন মাস পরে স্কুল খুলল। এই তিন মাস পুলিশ, মিলিটারি, ডান-বাম সব রাজনৈতিক দলগুলোর সাহায্য নিয়ে নক্সাল সাফাই অভিযান চালালো। এই স্কুলগুলোর আর প্রেসিডেন্সি কলেজের নক্সাল ছাত্রদের সবাইকেই পুলিশ ধরে ফেলেছে। যাদের ধরতে পারেনি তারা উধাও হয়ে গেল, আর ফিরলোই না কোনোদিনই। এই আন্দোলনকে একেবারে গুঁড়িয়ে দেবার জন্য সরকারি প্রশ্রয়ে বিপরীত ছাত্র-রাজনীতির দ্রুত প্রসার হচ্ছে। তারাও একই রকম হিংস্রতায় বিশ্বাসী, শুধু অভিমুখটুকু ভিন্ন। জমি দখলের লড়াই। সে বছর বিনা পরীক্ষায় পাশ করল সবাই। ততোদিনে অনন্তও ছাড়া পেয়েছে। অনন্ত জেল থেকে ফিরে একটু চুপচাপ হয়ে গেছে। ওর ইলেভেন ক্লাসের বন্ধুরা যারা ধরা পড়েছিল তারা স্কুলে আসে না। তাদের কেউ কেউ হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দিল। ক্লাসের যারা আজকাল অনন্তকে এড়িয়ে চলছিল তারা ধীরে ধীরে আবার বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বন্ধুদের বদলে অরাজনৈতিক বন্ধুদের দল তৈরি হলো অনন্তর, তার মধ্যে সাত্যকিও একজন। এখন ওরা সবাই অনেকটা বড় হয়ে গেছে এমনকি বাড়ির লোকেদের চোখেও। স্কুলের সরস্বতী পুজোর দায়িত্বও এবছর ওদের। সাত্যকির দিদির বিয়ে হলো। ওদের বাড়িতে কাজের লোকের বড় অভাব।

সাত্যকির বন্ধুরাই হৈ হৈ করে বর আনতে গেল, অতিথি আপ্যায়ন করলো, পরিবেশন করলো। কৃষ্ণেন্দুর ঠাকুরমা মারা গেল মেডিক্যাল কলেজে, রাতে বাড়িতে আনা হলো না মৃতদেহ, রাখা হলো মর্গে। পরদিন মূলত সাত্যকিরাই দেহ নিয়ে গেল সৎকার করতে। সেই থেকে শুরু হলো ওদের সমাজ সেবার হুজুগ। আজ কারো বিয়ে, কাল কেউ মারা গেছে, পরশু কারুর জন্য হাসপাতালে রাত জাগতে হবে। এর পাড়ার বন্ধু, ওর পাড়ার ছেলে এভাবে দলে বেশ কিছু ছেলে জুটেছে যারা আদৌ সহপাঠি নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই যথেষ্ট বখাটে, দিব্যি মস্তানি করতে পারে। প্রায় অকারণেই দলের বাইরের ছেলেরা অনন্তকেও ভয় পায়, মস্তান বলেই ভাবে। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সাথে সাত্যকিরা সিগারেট খেতে শুরু করেছে। নিমতলায় গেলে গাঁজার কল্কেতেও টান মারে। মদ, সিদ্ধিও চাখা হয়ে গেছে। পড়াশোনাও চলছে সাথে। অনন্ত, সাত্যকি, সোমনাথরা রোববার রোববার নয়নবাবু স্যারের বাড়ি পড়তে যায়।

যদিও কোলকাতা শান্ত হয়ে গেছে। বিদ্রোহের অনুরণন শোনা যাচ্ছে শহর থেকে অনেক দূরে। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার কথা শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে ডেবরা গোপীবল্লভপুরের নাম। সন্তোষ রানা, জয়শ্রী রানার নামে পোস্টার পড়ছে। কিছুদিন আগেই যে শান্ত বীরভূমে তিন মাস কাটিয়ে এলো সাত্যকি, এখন সেই জেলাই খবরের শিরোনামে। একদিন বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র পরিষদের ছেলেরা এসে ক্লাস থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেল অনন্তকে। ওদের হুকুম স্কুলে ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন চালু করতে হবে অনন্তকে। অতোগুলো ছেলের সামনেও অনন্ত ঘাবড়ায়নি, বলে দিলো ও করবে না। ব্যাপারটা ওখানেই শেষ হয়তো হতো না। কিন্তু অনন্তকে বাইরের ছেলেরা ডেকে নিয়ে যেতেই সাত্যকিরা ছুটেছিল ক্লাসে ক্লাসে। দলে দলে ছেলে বাইরে এসে ঘিরে ফেলছে দেখে বহিরাগতরা কথা না বাড়িয়ে সরে পড়ল। তারপর ক’দিন অনন্তকে ঘিরে থাকলো সাত্যকিরা।

স্কুলে শ্রীমতী নীহার দাশগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হতো বাংলা রচনা প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে ভালো রচনাটি লেখার জন্য। বিজ্ঞান বিভাগের কেউ কেউ প্রতিযোগিতায় ভাগ্য পরীক্ষা করত বটে চিরকাল কলা বিভাগের ছাত্ররাই পুরস্কারটি পেয়ে এসেছে। অসীমবাবু সাত্যকিকে অসম্ভব স্নেহ করতেন। এক রকম জোর করেই সাত্যকিকে বসালেন প্রতিযোগিতায়। কোনো প্রস্তুতিই ছিল না কিন্তু অসীমবাবু কোনো অজুহাত শুনতে নারাজ। আর সে বছর পুরস্কারটি পেলো সাত্যকি। কলা বিভাগের অমিতাভ তাতে বড় আহত হয়েছিল। স্কুলে থাকাকালীন কোনোদিনই আর কথা বলেনি সাত্যকির সাথে। এখন হলে হয়ত সাত্যকিই যেচে কথা বলে ওর অভিমানটা মুছে দিত, সে বয়সে ব্যাপারটাকে পাত্তাই দেয়নি।

সে বছরই স্কুলে নবাগত হেডস্যার উমাপতিবাবুর উৎসাহে চারদিনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হোলো। যার নেতৃত্বের দায়িত্ব পেল অনন্ত। আসলে বোধহয় স্যারেরা চাইছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়টাকে আটকাতে। চাইছিলেন ছাত্রদের উৎসাহের অভিমুখটাকে রাজনৈতিক দিক থেকে ঘুরিয়ে দিতে। অনন্তের উৎসাহেই সাত্যকি নিজের আঁকা একটি ছবিও দিলো এবং লালুবাবু সে ছবি বোর্ডে মাউন্ট করে গ্যালারিতে স্থানও দিলেন। অনন্ত নিজে রইল বিজ্ঞানের কাউন্টারে। প্রস্তুতিপর্বের কিছুদিন সবাই সন্ধ্যের পরেও অনেক সময় অবধি স্কুলে থেকে একেকটা গ্যালারি তৈরি করেছে। হেডস্যারই যখন উদ্যোক্তা, তখন দ্বারোয়ানরা আর কি বলবে। জমিয়ে আড্ডাও চলত। নিজেদের বেশ বড় বলে মনে হতো। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার আগে কলেজ স্ট্রীট মার্কেটের ভেতর নীলিমা কেবিনে চা খাওয়া হতো। ততোদিনে চা খাওয়াটা সবাই শিখে ফেলেছে। পয়সা বেশি থাকলে ভাগাভাগি করে মোগলাই পরোটা।

বছরের শেষে দেখা গেল ওদের দলের সবার রেজাল্টই মোটামুটি ভালোই হয়েছে। শেষ বছরটা আসতেই সবাই যেন নড়েচড়ে বসল। আর ফাঁকিবাজি নয়। নিজেদের মধ্যে একেকদিন একেকজনের বাড়িতে দল বেঁধে পড়তে বসা হয়। সে বাড়িতে সুযোগ সুবিধা থাকলে মাঝে মধ্যে বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়াও দেওয়া হয়। তার মধ্যেও মড়া পোড়ানো, হাসপাতালে রাত জাগা, কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার সহায়তা করার দায় পুরোপুরি এড়ানো গেল না। অনন্তর দিদিমাই তো মারা গেল ফাইনাল পরীক্ষার একমাস আগে। এইসবের মধ্যেই শেষ বছরটা হুড়হুড়িয়ে কেটে গেল। টেস্ট পরীক্ষাতে সবাই ছাড়পত্র পেল। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হতে হতেই জয়েন্ট এনট্রান্স। তারপর নিরবচ্ছিন্ন তিন মাস আড্ডাই আড্ডা।

ফাইনালের রেজাল্ট, জয়েন্টের রেজাল্ট, আলাদা আলাদা কলেজ, কলেজ হোস্টেলে ঠাঁই নেওয়া। দূরে সরে যাওয়া, ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়ে গেল। বছর খানেক, বছর দুয়েক তবুও বন্ধুত্ব থাকলো। কোনো কোনো দিন সন্ধ্যেবেলা সবাই এককাট্টা হয়ে কালিদার দোকানে ভাঁড়ের চা খেয়ে সার সার পুরোনো বইয়ের দোকানের কাউন্টারে উঠে বসে আড্ডা। হরি, সন্তোষ এরা সব দোকানী, তারাও সামিল হতো আড্ডায়। খদ্দের এলে চট করে দোকান খালি করে দেওয়া। দোকানগুলোর ঝাঁপ ফেলে তালায় আগুন দেখিয়ে সন্তোষরা বাড়িমুখো হলেও সাত্যকিদের গল্প শেষ হতো না। রাত বেশি হয়ে গেলে পুলিশের জিপ চলতে চলতে থেমে পড়ত, সামনের সীটে বসা জোড়াসাঁকো থানার এস.আই. মুখ বার করে হাঁক পাড়লেই ওরা বুঝত সত্যিই অনেক দেরি হয়ে গেছে।

কবে থেকে যে সেসব গল্পগুলো ফুরোতে শুরু করলো এখন আর মনেই পড়ে না। জীবনের এতোগুলো দিন যাপন করা হয়ে গেল। যা কোনোদিন হয়নি আজ হচ্ছে। সাত্যকির মাথার মধ্যে ঢং… ঢং…ঢং করে ঘন্টা পড়ছে, ঘামে ভেজা গেরুয়া রঙা পাঞ্জাবি পরা রামধনি মস্ত বড় ঘন্টাটাকে হাতুড়ি দিয়ে তালে তালে ঘা মারছে। টিফিন পিরিয়ড শেষ। খেলা শেষ। সাত্যকির সামনে সামনে লাফিয়ে লাফিয়ে সিঁড়ি ভাঙছে অনন্ত। পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম কালো হাফ প্যান্ট আর সাদা শার্ট। ছবিটা স্পষ্ট চোখের ওপর ভাসছে। শুধু কিছুতেই অনন্তর সেই বয়সের মুখটা মনে করতে পারছে না সাত্যকি। কেমন একটা আবছায়া মুখই মনে আসছে। অথচ আধপাকা কদম ছাঁট চুলের রামধনির মুখটাও স্পষ্ট মনে পড়ছে।

শরীরটা পোড়ানো হয়ে গেছে। অস্থি, নাভিকুন্ডলী কাল অফিস থেকে পাওয়া যাবে। ডোম ছেলেটি তার পাওনা গন্ডা চাইতে এসেছে। হয়ত অন্যায্য রকমেরই কিছু দাবী করেছে। স্বপনের ছেলে একেবারে রে রে করে উঠেছে। স্বপনও ছেলেটাকে বোঝাচ্ছে যে তার দাবীটা কতোটা অসঙ্গত, বিশেষত যখন মৃতের কোনো আত্মীয়স্বজনই নেই। সব কথা সাত্যকির কানেও যায়নি তবুও সাত্যকি হাত তুলে থামালো সবাইকে। পকেটের ওয়ালেট খুলে ছ’টা পাঁচশো টাকার নোট বের করে ছেলেটার হাতে দিলো। ছেলেটা ভাবতেই পারেনি সত্যিই এতোগুলো টাকা পাবে। বাড়িয়েই বলেছিল, ভেবেছিলো দরাদরি তো করবেই। এখন খানিক বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে দেখছে। সাত্যকির মাথার ভেতর এখনো স্কুলবেলটা ঢং ঢং করে বেজেই চলেছে, সিঁড়ি বেয়ে অনন্তর ক্লাস সিক্সে পড়া অবয়বটা লাফিয়ে লাফিয়ে উঠেই যাচ্ছে। ঢং…ঢং…ঢং।

লেখক পরিচিতি : চন্দন কুমার চৌধুরী

জন্ম ১৯৫৫তে উত্তর কোলকাতায়। হেয়ার স্কুলে পড়তে পড়তেই লেখালেখি শুরু। শ্রীরামপুর টেক্সটাইল টেকনোলজি কলেজ থেকে স্নাতক, বরোদার এম.এস. ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। পেশাগতজীবন কেটেছে মুম্বাই, আমেদাবাদ ও হায়দ্রাবাদে। অত্যন্ত সফল পেশাগতজীবনের পর বর্তমানে হায়দ্রাবাদে অবসর জীবন কাটে সাহিত্য নিয়ে, ছবি আঁকা নিয়ে। বেশ ক’টা লিটল ম্যাগাজিনের নিয়মিত লেখক। নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন, হায়দ্রাবাদ শাখার বর্তমান সচিব। ২০১২ তে প্রকাশিত কবিতার বই ‘মন-আয়না’ ও হাসির ছোটগল্পের সংকলন ‘দুগগা-দুগগা’। আরেকটি গল্প সংকলন ‘বারো ইয়ারী গপ্প’ নভেম্বর, ২০১৯-এ প্রকাশনার অপেক্ষায়।

One thought on “স্কুলবেল

  1. Pingback: ‘স্কুল নিয়ে’ : আয়নানগর গল্পসংখ্যা | aainanagar

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s