বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে

নীতা মণ্ডল

বাসুদেবের ছাত্রছাত্রীদের আজ নেমন্তন্ন। নিজের বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজক বাসুদেব নিজেই। অতিথি জনা তিরিশেক। দশ থেকে ষোল-সতেরোর মধ্যে বয়স ওদের। চেহারা রুগ্ন, মলিন এবং হতদরিদ্র। ওদের ফ্যাকাসে চোখে দৃষ্টি শূন্য। ওরা আহত এবং আশাহত। বাসুমাস্টারের চলে যাওয়ার খবরে ওদের চোখের সামনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। শোকের প্রাথমিক অভিঘাতটা সম্ভবত সয়ে গিয়েছে।

ঘসঘস করে পা টেনে আসার শব্দ হতেই বাসুদেব সচকিত হয়। তালঢ্যাঙা চেহারাটা ঈষৎ ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে এগিয়ে আসে বাসুদেবের কাছে। পশুপতি। গ্রামের মানুষ, ছেলেমেয়েরা ডাকে ‘পশু’। এ কী অমানবিক সম্বোধন! শুরুতে একথা শুনে বাসুদেব পশুপতির গোটা ক্লাসকে শাস্তি দিয়েছিল। কান ধরে দাঁড় করিয়েছিল সবাইকে। তারপর থেকে বাসুদেব পশুপতিকে ডাকত, ‘পশুরাজ’।

Continue reading