তোলন

জিনিয়া ব্যানার্জ্জী অধিকারী

 

এক

কামারদের খামারে পাঁচিল ঘেরা ফাঁকা জায়গাটায় একদিকে ধান ঝরানো আর একদিকে খড়ের পালুই বাঁধা চলছে দিনকতক হল। সকালবেলা কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ থাকে। সেই সময়টা ডাঁই করা খড়ের গাদাতে পাড়ার ছেলেমেয়েগুলো এসে জোটে রোজ। টুকি, পুকু, মিনি, রতন ও পম্পা। পালুইয়ের পিছন দিক থেকে হঠাৎ একটা সরসর আওয়াজ হতেই সবাই ‘কে? কে?’ করে চেঁচিয়ে উঠল। সাহস করে পিছন দিকটা একবার দেখবে নাকি বাড়ি ফিরে যাবে, ভাবতে ভাবতে এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে, এমন সময় টুকির চোখে পড়ল সবুজ-কালো, চেক-প্রিন্ট শাড়ীর আঁচল। সঙ্গে সঙ্গে রুদ্ধশ্বাসে বাড়ির দিকে দৌড় দিল টুকি। কামারদের বাড়ি থেকে চারটে বাড়ি পেরিয়ে সাদা রঙের বড় দালান বাড়ি। ব্যানার্জ্জী-বাড়ি। ছোট কালো গেট খুলে, সরু গলি পেরিয়ে সদর দরজা। দরজা খুলেই বড় বাঁধানো উঠোনে রোদে শুকনো হচ্ছে বড়ি, আমচুর আর কাঁচের বয়ামে আমতেল। একপাশে একটু ছায়া দেখে কাঠের চেয়ারে বসে গভীর মনোযোগ সহকারে খবরের কাগজ পড়ছে পুষ্পাঙ্গিনী। পাশে একটা মোটা বাঁশের কঞ্চি। ছাগল আর কাকের বড্ড উপদ্রব তাই এটা লাগে। পরনে দুধসাদা ইঞ্চিপাড় কাপড়, ছিপছিপে চেহারা, ইষৎ কালো, চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। আচমকা টুকি হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বলল,

– ঠাকুমা, রাঙাদিদাকে দেখতে পেয়েছি।

– কই রে, কোথা সি হতচ্ছাড়ি?  চ’তো দেখি, আজ তার একদিন কি আমার একদিন। আমারই খাবে, আমারই পরবে আর আমাকেই জ্বালিয়ে মারবে! পান থেকে চুন খসল কি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেল! আমার ভাত বাঁচিয়ে আমাকে উদ্ধার করে দিল। খুব আমার দরদী!

Continue reading