বাংলা লিটল ম্যাগ ও ডিজিটাল অর্কাইভিং— কিছু কথা

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

Adult, Indian, Male, Normal, Education: Possess Master degree certificate, Loves travelling.
Writing career:
age.           topic
14-16.       Love poems
16-20.       Political pamphlets
21-23         Luv letters
23 -25.      Civil services exam
25 -to date:  Everything from shit to not(e)sheet(example attached)

বছরদুয়েক আগে এক অগ্রজ সম্পাদকের আদেশে মুজতবা সিরাজের “মায়ামৃদঙ্গ” বইটার  মূল্যায়ন করে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম তাঁর পত্রিকার বইমেলা সংখ্যায়।

তা, গেল বছর মেলায় গেছি তখন এক সমব্যবসায়ী এসে চোখটোখ কুঁচকে ভারী ‘গোপন’ একখানা খবর দিলেন, “দাদা, আপনার সেই লেখাটা না ঝেড়ে দিয়ে আরেকটা লিটল ম্যাগাজিনে ছেপেছে। কাল দেখেছি।”

বললাম, “অন্যের নামে?”

“না না, নামটা আপনারই রেখেছে, কিন্তু পারমিশানটিশান কি নিয়েছে নাকি কিছু? মনে তো হয় না। এইসব জোচ্চোর…”

এহেন দশায় আমাদের ভারী রেগে গিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলে সেই জোচ্চোরের উদ্দেশ্যে দুচারটে গাল দেয়াটাই বর্তমান বাংলাসাহিত্যের নাগরিক পল্লীসমাজের দস্তুর। এই যেমন, ‘কী খচ্চর’,‘দাঁড়াও দেখে নিচ্ছি ব্যাটাকে’, ‘কী সাহস—’ ইত্যাদি। অন্যথায় অভিযোগকারী মনে দাগা পায়। ফলে আমিও বন্ধুকে সুখী করবার জন্য নিয়মমাফিক দু চারপিস কাঁচা দিয়ে তারপর তাঁকে বিদেয় করে পত্রিকাটা খুঁজতে চলে গেলাম।

আসলে আমার মনে বেজায় আনন্দ হচ্ছিল। কারণটা বলি। কপিরাইট নামক বস্তুটার বাংলা সাহিত্যের উঠুনে এমনিতেই কোনো ঐহিক মূল্য নেই, কারণ বাংলা ভাষায় গপ্পো, কবিতা কিংবা জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ লিখে আর যাই হোক পয়সাকড়ি মেলে না। মায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রেকর্ড কপিটা অবধি লেখককে নিজের গাঁটের কড়ি দিয়ে কিনতে হয়, তা সে পত্রিকাটার বেশির ভাগটাই সম্পাদকের ঘরে আবর্জনার মতন জমে থাকলেও। এ ভাষায় লিখে আয় করতে হলে সত্যজিত রায় হওয়া কিংবা ইশকুলের মানে বই লেখা ছাড়া আর তৃতীয় কোন রাস্তা খোলা নেই। প্রথমটা হবার মত মাথার ও দ্বিতীয়টা হবার মত বিদ্যের জোর আমাদের অধিকাংশেরই নেই বলে আমরা আম লেখককূল লিখেটিখে পয়সা রোজগারের স্বপ্ন দেখি না। তার বদলে গল্প, কবিতা এবং সার ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধটবন্ধ লিখে থাকি নিজের লেখাটা দশজনে পড়বে সেই আশায়। ফলে কেউ কোন লেখা বিনা অনুমতিতে কোথাও পুনর্মুদ্রণ করে দিলে আমাদের কোন সত্যিকার ক্ষতি নেই। বরং একটা লাভের আশা থেকে যায় যে আরো কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ আমার লেখাটা পড়তে পাবেন। (পাঠকলোভী ও পয়সাকাংখী  এ বাদে তৃতীয় একটা লেখকদল আছেন যাঁরা কেবল সৃষ্টির জন্যই সৃষ্টি করেন। তাঁরা সৃজনীশিল্পের ব্রহ্মলোকের বাসিন্দা। এ আলোচনায় তাঁদের আনবার বাঁদরামো নাই বা করলাম)

অর্থবিত্ত নয়, নোবেল, জ্ঞানপীঠও নয়, শুধু আরো বেশি মানুষ তাঁর লেখাটা পড়ুন এইটেই বাংলাভাষার সাহিত্যকর্মীদের একটা স্বপ্ন। অথচ সে পথেও বিস্তর কাঁটা। লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকের বৌদ্ধিক স্তর যতটা শক্তিমান, পকেটিয় স্তর ততটাই দুবলাপাতলা। তায় আবার ইন্টেলেকচুয়াল হবার দায় মেটাতে তিনি কমপিউটার ইত্যাদি যন্ত্রপাতিতে নিজে হাতে প্রাকমুদ্রণ কাজগুলো সামলে নেবার ঘোর বিরোধী। ফলে পত্রিকার ছাপাই খরচ, কাগজকালির দাম ইত্যাদির সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত জুড়ে বসে ডিটিপি কিংবা গ্রাফিক্সের কাজের খরচ। সেসব সামলে পত্রিকার তিন থেকে পাঁচশো ছেপে বের করতে তাঁর হাঁড়ির হাল হয়। ওরকম ছোট সংখ্যার কোন প্রকাশনাকে বাজারজাত করবার দায়িত্ব পেশাদার ডিস্ট্রিবিউশান এজেন্সিরা নেবেন না তা বলাই বাহুল্য। ফলে কোনমতে পত্রিকা ছেপে বেরোলে এবার সম্পাদকের (এবং তাঁর উপরোধে ঢেঁকি গেলা বন্ধুকূলের) দায় পড়ে তাকে নিয়ে লোকজনকে সাধাসাধি করে তার বিক্রির বন্দোবস্ত করার। সেটাকেও পেশাদারভাবে করা সম্ভব হয় না, কারণ সম্পাদককেও ডালভাতের জোগাড় করতে হয়। ফলে চাকরি সামলে বউবাচ্চার আবদার মিটিয়ে, তারপর যে সামান্য সময়টুকু পড়ে থাকে তাইতেই পরের সংখ্যার প্রস্তুতির সঙ্গে চলে কারেন্ট ইস্যু বেচবার সাধনা। ফল যা হয় তা তো দেখতেই পাই—বের হল তিনশো কপি, কয়েকটা স্টলে সেধেসুধে তার মধ্যে পঞ্চাশ ষাটটা গেল, চেনাপরিচিত লোকজন একটু প্যাট্রনাইজ করে কিছু কিনল, কিছু উপরোধে ঢেঁকি গেলানো হল, আর তারপর বাকি থেকে যাওয়া বেশ কিছু পত্রিকা গাঁটরি বেঁধে চ্যাঙারিতে তুলে রাখা হল।

Continue reading

‘অন্যদিগন্ত’ ও লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু বোঝাপড়া

সিজার মিশ্র

আর একটাও লাইন নেই…

আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে ২০১২ সালে জানুয়ারি মাসে আমি এবং আমার কিছু স্কুলের বন্ধুরা মিলে ঠিক করে ফেললাম “অন্যদিগন্ত” নাম দিয়ে লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করব। এই লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপারটা কয়েকজন ধরতে পারেনি। তাদের কাছে ম্যাগাজিন মানে ম্যাগাজিন; লিটল, বিগ বলে কোন ধারণাই তাদের নেই। ঠিক যেমনটা আমারও ছিল না ২০১০ এর আগে। পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা, দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর বালুরঘাটে আমার বাল্যকাল এবং কৈশোর কাটে। বালুরঘাটেই আমার স্কুল জীবনের শুরু এবং শেষ। উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে ২০০৯ সালে কলকাতা চলে আসি কলেজে পড়ার জন্য। ২০১০ সালে প্রথম কলকাতা বই মেলা দেখতে যাওয়া এবং সেখানেই লিটল ম্যাগাজিন আর্কাইভের সাথে পরিচয় ঘটে। এর আগে পর্যন্ত লিটল ম্যাগাজিন এবং আরো অনেক কিছুর সাথেই পরিচিত ছিলাম না।

কলকাতা আগমন এবং কিছু ঘটনা 

২০১০ সালে প্রথম এসএফআইতে যোগ দেই। আমি যেহেতু সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়তাম, আর সেখানে ইউনিয়ন বলতে এসএফআই-ই শুধু ছিল, তাই কলেজে একটু সুবিধে করার জন্য দলে নাম লেখাই। সুবিধে বলতে যাতে করে কলেজের ফি জমা দেওয়ার সময় যাতে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে না হয়, পাসের ক্লাসগুলোতে উপস্থিতির হার কম থাকলেও যেন পার পাওয়া যায় এমন কিছু কারণে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের শোচনীয় পরাজয় এবং তৃণমূলের উঠে আসা, সব মিলিয়ে কলেজ রাজনীতিতেও এক আমূল পরিবর্তন ঘটে গেল চোখের সামনে। এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে ১৩ই মে, ২০১১, সোমবারে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয় এবং ঠিক তার ২ দিন পরে অর্থাৎ ১৬ই মে, বৃহস্পতিবার কলেজে যাই। দুপুর ১টা কি ২টো হবে; কলেজে ঢুকতেই দেখি নিস্তব্ধতা। মনে হচ্ছে শ্মশানে চলে এসেছি যেন। ভেতরে ঢুকতে চোখে পড়ল, আগে যেখানে এসএফআই লেখা বিশাল এক ফেস্টুন ঝুলত, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের ছবি লাগানো তৃণমূলের ফেস্টুন ঝুলছে। শুনলাম যারা এসএফআই করত সবাই (৭/৮ জন ছাড়া) নাকি তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। যারা থেকে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ভেবেছিলাম “দেবা”-দাও নিশ্চয় থাকবে, পরে শুনলাম সবার আগে নাকি সেই কেটে পড়েছিল। কারণ তার নামে নাকি অনেক অভিযোগ ছিল পুলিসে, মস্তান ছিল নাকি সে। এরপরও আমি প্রায় ২/৩ মাস এসএফআই-তেই থাকি, সেই সূত্রে কলেজস্ট্রীটের ফেবারিট কেবিনের দিকে সিপিএম-এর জোনাল পার্টি অফিস আছে সেখানেও যাতায়াত বেড়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে যেতাম, বেশ কিছু বয়স্ক নেতা এসে ৭০-এর দশকের গল্প বলতেন। আর এক দাদা ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দায়িত্বে, কি ভাবে আবার সুরেন্দ্রনাথে নিজেদের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করা যায়। এমন নানা আলোচনা থেকে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি আসলে ছাত্রীছাত্রদের জন্য সুবিধে নয়, এঁদের প্রধান উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা। ঠিক এমন সময়, যখন আমি কি করব বলে ভাবছি, এসএফআই তে থাকব কি থাকব না, তখন আমার এক স্কুলের বন্ধু মৃন্ময়ের সাথে আবার দেখা হল কলেজ স্ট্রীটে। মাসটা আগস্ট, কফিহাউসে বসে নানা কথাবার্তা চলছে, পুরোন দিনের বেশ কিছু কথা উঠে আসছে, সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যতে কি হতে পারে এমন নানা আলোচনা চলতে থাকে। সবে সবে ছাত্র রাজনীতি করছি, বেশ উত্তেজিত আমি। তবে মনে শঙ্কা জাগে আমার এই বন্ধু হঠাৎ করে এত রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছে কেন? কারণ স্কুল জীবনে ও কখনোই রাজনীতির ধারে কাছে ঘেঁষেনি। এমন করে ৬/৭ দিন যাওয়ার পরে জানতে পারলাম সেও নাকি ছাত্রীছাত্র রাজনীতি করছে। আমি জানতে চাইলাম কোন দল করিস তুই, এর উত্তরে ও যা বলেছিল তাতে আমি প্রথমটায় ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কারণ এসএফআই, সিপি, আরএসপি, তৃণমূল ছাত্র সাংসদ এদের বাইরেও যে কিছু থাকতে পারে জানা ছিল না। আর এও জানতে পারলাম যে এই ছাত্রীছাত্র সংগঠনের কোন মা-বাবা-ঠাকুরদা নেই, এরা স্বাধীনভাবেই ছাত্রীছাত্র সমাজের দাবিদাওয়া তুলে ধরে। এরপরে সেই সংগঠনে যোগ দেওয়া এবং নানা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকা। এসএফআই থেকে বেরিয়ে আমি যে সংগঠনে যোগ দিয়েছিলাম, তার সূত্র ধরেই ২ মাসের মাথায়, নভেম্বর ২০১১-র শেষের দিকে প্রত্যক্ষ করলাম কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীছাত্র নির্বাচনকে ঘিরে মেডিক্যাল কলেজের স্বাধীন ছাত্রীছাত্র সংগঠন বনাম মূল ধারার রাজনৈতিক দল (বর্তমান সরকারের) ও মিডিয়ার ভূমিকা। খবরের কাগজে দেখি কতটা মিথ্যা প্রচার চালান হচ্ছে। আবার কিছু কাগজ খুব নিপুণতার সাথে অর্ধেক খবর প্রকাশ করেছে, যাতে করে সরকারেরও মন জয় করা যায় এবং কেউ মিথ্যাও বলতে না পারে। অর্ধেক সত্য (খবর) যে কতটা ক্ষতিকর সেদিন বুঝেছিলাম।

হঠাৎ করে লিটল ম্যাগাজিন কেন? 

Continue reading