ধড়াম! একটি তীব্র রক্তিম শলাকা

মিত্রাভ ব্যানার্জি‌

বুনুয়েলের পানুয়েল অপবাদটি অলীক! তার সঅব ‘বই’ই লটঘট অ্যাঙ্গেল থেকে ক্যামেরা কর্ম নয়। আরো জানতে পড়ুন…পড়ুন…পড়ুন… – মিত্রাভ

সেই প্রচ্ছন্ন চাহিদার বস্তুটি
that obscure object of desire
লুই বুনুএল

(‘জনমেজয়ের প্রশ্নের উত্তরে বৈশম্পায়ন কহিলেন এই অংশটি ভবিষ্যতে মুখবন্ধ হিসাবে পরিচিতি পাইবে’)

প্রাথমিক সমস্যাগুলির সমাধান করে নিই আগেভাগেই:

সমস্যা ১। যা বলার, বক্তব্য যা, তা পষ্টাপষ্টি করে বললেই হতো। প্রথমে সিনেমা দেখো রে, অতঃপর ক্ষীণকটি কিরীটকের মন্তব্য গাঁতাও রে, এ অপচয় কেন? আমার ব্যক্তিগত ধারণা মানুষ স্বভাবত নেতিবাচক। কঠোর সত্যি কড়া করে বললে মানুষ ছিলায় অছিলায় তা প্রত্যাখ্যান করে। যে বলে কোলকাতা জঞ্জাল আস্তাকুঁড়, তাকে আমরা এন আর আই বলে খেউড় করব, যে বলে লন্ডনের বাসের রঙ লাল, তাকে আমরা এম সি, বি সি, মায় নিরোধ সি বলতে বাকি রাখবো না। এমতাবস্থায় প্রচ্ছন্নর বদলে প্রকট চাহিদা নিয়ে জলকেলি কল্লে তার গণ্ডদেশের জন্য যে মিষ্টি চুম্বন অপেক্ষা করে নেই, সে কথা খোলসা করে না বললেও চলে। মনে হয়, এই আবিষ্কারের স্বত্ত্ব যীশুবাবার। সে যে ওই মধ্য প্রাচ্যের গরমে ঘেমে নেয়ে অত অ্যাকটো কল্লে, কেন কল্লে? জিউ মন্দিরের বাবাজিরা ধত্তে পাল্লে যে তার কবলীতে কাতুকুতু দেওয়া হবে না, সে বিলক্ষণ তার জানা ছিলো। যিশু যুদ্ধ কত্তে পারতো। অনুগামীর সংখ্যা কিছু কম ছিলো না তার জীবৎকালেই। যিশু জিউ মন্দির, উন্মাদ হেরড, মেরুদন্ডহীন পেলতিয়ারকে পালটে নিজে ক্ষমতাসীন হতে পারতো। সেকথা জিজ্ঞেস কত্তে যিশু তার আলখাল্লায় হাত মুছতে মুছতে বললে ‘বেটা, যদি তোমার বউকে বলি, যে বউ তোমার সাথে বিশ বচ্ছর ঘর কচ্ছে সুখে দুঃখে, যদি সত্যি কথাই বলি, যে তুমি লম্পট, তুমি ছবি আঁকা পছন্দ করো না, গান গাওয়া পছন্দ করো না, তবে ফুটফুটে নিষ্পাপ মেয়েটি ভাববে হয় আমি উন্মাদ, নয় আমার কোনো বদ মতলব আছে। ব্যাস। কেস শু-ৎ-zপা হয়ে যাবে। তাচ্চেয়ে ভালো আমি কি করবো? প্রথমে আমি একটা গান বাঁধবো। তোমার বউকে শুদ্ধ কড়ি মিলিয়ে শোনালে তার মনে হবে বাহ! গান ব্যাপারটা তো দারুণ। এরপরে তোমার সভায় গান শোনাতে গেলে তুমি আমার জিহ্বা কর্ত্তণ করবে। তখন আমি কি করবো? আমি তুখোড় একখানা ছবি আঁকবো, তোমার বউ প্রুশিয়ান নীলে মাতোয়ারা হবে। তোমার সভায় সর্বসমক্ষে তুমি তাপ্পর ছবিটি তো ছিঁড়ে ফেলবেই, আবার আমার অঙ্গুলি ছেদন করিবে। তখন…প্রিয় তখন…বিসর্জন নাটক মঞ্চস্থ হবে। বৌমণির মনে হবে এত অক্ত কেন? আরে বাবা এতনা খুন কিঁউ হ্যায়? তখন তোমার প্রতি বিশ্বাসে তার ফাটল ধরবে।’

এর ১৯৭৭ বছর পরে বুনুয়েল তাঁর অঙ্গুলি জিহ্বা ত্বক না হোক, শ্রবণশক্তি বিসর্জন দিয়ে সামান্য ফাটলটুকু আমাদের উপহার দিলেন।

Continue reading