বিরুদ্ধ জ্ঞানের খোঁজে: সাংখ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক আন্দোলন

সৌমিত্র ঘোষ

‘বিরুদ্ধ জ্ঞানের খোঁজে…’ – লেখাটি বেরিয়েছিল এবছরের (২০১৯) আয়নানগর বইমেলা সংখ্যায়। আমাদের গাফিলতিতে লেখাটিতে কিছু ছাপার গণ্ডগোল থেকে যায়, তাতে লেখার মাঝ বরাবর এক জায়গায় লেখাটির অর্থ বোঝা যায় না। আরও কিছু বানানের ভুলও থেকে যায়। এখানে লেখাটির যথাসম্ভব সঠিক সংস্করণ আবার করে ছাপা হল। লেখাটি যাঁরা এর মধ্যে পড়তে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন, তাঁদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। – আয়নানগর টীম

প্রাককথন

জ্ঞান কি করে আসে? অর্থ মানে কি? জ্ঞান ও অর্থ নির্মাণের প্রক্রিয়ায় ভাষার ভূমিকা কি? ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির যে যোগাযোগ ভিন্ন যৌথ গড়ে ওঠে না, তা কতদূর পর্যন্ত ভাষানির্ভর? কূট ও প্রাচীন এই প্রশ্নগুচ্ছ নিয়ে আজকে আমরা ভাবিত হবো কেন? বিশেষত, যখন গত ২৫-৩০ বছরের মধ্যে যোগাযোগ প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি বিভিন্ন ভাষার মধ্যে সহজ সংযোগের সাঁকো গড়ে তুলেছে, এবং অবিশ্বাস্য ও দূরপনেয় এক নিরন্তরতায় আমরা সদা-সংযুক্ত আছি, থাকতে বাধ্যও হচ্ছি, জ্ঞানতত্ত্ব কিংবা ভাষাতত্বের চর্চা আমাদের সামনে নতুন কি দিগদর্শন হাজির করতে পারে?

বলে নেওয়া ভালো, জ্ঞানতত্ত্ব চর্চা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু ওপরের প্রশ্নগুচ্ছ এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়, বিশেষ যদি সামাজিক আন্দোলনের সংগঠিত হওয়া কি বেড়ে ওঠার নানান প্রক্রিয়াকে আমরা তলিয়ে জানতে-বুঝতে চাই, স্থিতাবস্থা ও শাসকের আধিপত্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা যাবতীয় প্রতিবাদ/প্রতিরোধের অন্তর্লীন চলনগুলিতে দৃষ্টিপাত করি। যোগাযোগ ও মৈত্রী স্থাপনের যে বিবিধ সামাজিক ইতিহাস এহেন প্রতিবাদ/প্রতিরোধের উৎসে সদা ক্রিয়াশীল থাকে, তা যদি আমাদের আলোচনার বিষয় হয়, তবে জ্ঞান-অর্থ-ভাষার কূট প্রসঙ্গে আমাদের ঢুকতেই হয়, পুরোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয় নতুন করে। প্রযুক্তিনির্ভর যে যোগাযোগ-বিপ্লব ইদানীং আমাদের সমষ্টি ও ব্যক্তিসত্বা সর্বক্ষণ ছেয়ে আছে, যা সম্ভব করে তুলেছে অসংখ্য নতুন যৌথকে, সমাজবদলের কি সমাজমুক্তির বিভিন্ন আন্দোলনে যার প্রভাব ক্রমবর্ধমান, তাকে বুঝতে গেলেও জ্ঞানচর্চার এই প্ৰতর্কে প্রবেশ নিতান্তই আবশ্যিক।

অর্থাৎ আমরা বুঝতে চাইছি জ্ঞান কি করে নির্মিত হয়। নিছক অবয়বহীন বিমূর্ত জ্ঞান নয়, যা দর্শনচর্চার বিষয়, অথবা তুলনায় শরীরী জ্ঞান, যার বিবিধ ব্যবহারিক প্রয়োগ ও কার্যকারিতা আছে। আমরা জানতে চাইছি সেই বিশেষ জ্ঞানের কথা, যা প্রকাশিত হয় বিরুদ্ধতায়, স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে, প্রতিবাদের ভাষায়, যে ভাষা আসলে বিরুদ্ধতার চাবুক, যা যোগাযোগ ও মৈত্রী স্থাপনের অবলম্বন ও উপায়, যা ভিন্ন সংগঠিত হওয়া যায় না, সংগঠন গড়ে তোলাও যায় না।

Continue reading