শিরীষা নাইডুর ভারতীয় অর্থনীতি সিরিজ: ২. পকোড়া বিক্রি নয় কেন? (প্রথম কিস্তি – জিডিপি ও চাকরি)

শিরীষা নাইডু (অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটি)

সঙ্গের কার্টুন – রেবেল পলিটিক (https://rebelpolitikblog.com/)

To read this article in English, click here.

এই লেখাটি আমাদের অর্থনীতি সিরিজের দ্বিতীয় লেখা। আপাতত আমাদের উদ্দেশ্য হল অর্থনীতির কিছু খুব সাধারণ ধারণা ও সংজ্ঞা, যা আমরা সর্বদাই খবরের কাগজে পড়ি, নিউজ চ্যানেলে – এমনকি রোজকার কথাবার্তাতেও শুনি, তাদের সহজ ভাবে বোঝানো। এই সাধারণ ধারণাগুলি যত কম মানুষ পরিষ্কার ভাবে জানেন, বা বুঝতে পারেন, যেকোনো সরকারি স্তরে বা কর্পোরেট সেক্টরগুলির পক্ষে তাঁদের বোকা বানানো ততই সহজ হয়ে ওঠে। সহজ হয়ে ওঠে উন্নয়ন সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মিথ্যা কাহিনী নির্মাণ, আমাদের কিসে ভালো হবে, হচ্ছে, তাই নিয়ে যথেচ্ছ মিথ্যাচার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেকার যুবশক্তির জন্য বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। হালে পকোড়া বিক্রি একটি যথাযথ কাজ হিসেবে গণ্য কিনা, সে বিষয়ে তাঁর মন্তব্য বিতর্কের ঝড় তুলেছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেলেভাজা শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এইজাতীয় মন্তব্য করেছিলেন এবং আরও হালের খবর – ত্রিপুরার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যুবকদের পানের দোকান দিতে পরামর্শ দেন – সরকারি চাকরির অপেক্ষায় না থেকে।

বর্তমান লেখাটি এইসব মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন তোলে, ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের যা পরিস্থিতি, তাতে স্ব-নিয়োজিত কাজই লক্ষ লক্ষ বেকারের একমাত্র সম্ভাব্য আয়ের পথ কিনা।

প্রিয় পাঠক, এই সিরিজটি বিষয়ে আপনার মতামত জানান। তাতে বিষয় নির্বাচন এবং লেখার ভঙ্গি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের সুবিধা হবে।

এই সিরিজের আগের লেখা “অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফাঁদ” পড়তে এখানে ক্লিক করুন

২০১৮-র উনিশে জানুয়ারি, জি নিউজের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্তব্য করেন – “যদি কেউ আপনার অফিসের সামনে পকোড়ার দোকান খোলে, সেটা কি চাকরি বলে গণ্য করা হবে? ঐ পকোড়া বিক্রেতার দৈনিক রোজগারের  ২০০ টাকার হিসেব থাকছে না কোনো সরকারি খাতায়। অথচ সত্যিটা হচ্ছে এই যে, বহু মানুষ এইরকম নানা কাজ বেছে নিচ্ছেন।” এই মন্তব্যর উপর ভিত্তি করে অনেক কথার পরে কথা, মোদীর পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা ও ব্যঙ্গমূলক অনেক লেখা, অনেক ‘মিম’ তৈরি হল। কিন্তু এই মন্তব্যের গভীরে লুকিয়ে আছে অনেক না বলা কথা। পকোড়া বা রাস্তার খাবারের দোকান কি চাকরির ক্ষেত্র? পকোড়া বিক্রি কি তাহলে জীবিকা হিসেবে মানুষের বিশেষ কাম্য নয়? কেন?

অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে জিডিপি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এবং মানুষের ভালো-খারাপ থাকার একটি পরিমাপ দেয় – যেমন আমরা আগের লেখাটিতে পড়েছি। একজন গড়পড়তা সাধারণ নারী – ধরা যাক তাঁর নাম মিরিয়ম, যিনি কলেজে পড়েছেন – চাকরির ব্যাপারে তাঁর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলি উঠে আসবে – জিডিপি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে তিনি কি চাকরি পাবেন? পকোড়া বিক্রিই কি তাঁর একমাত্র সম্ভাব্য কাজ? এই কাজ পাবার ফলে তাঁর ও তাঁর পরিবারের জীবনযাত্রার মান কি উন্নততর হবে? ঘুরিয়ে বললে, জিডিপি-জিডিপি করে এই যে অত্যুৎসাহ, তার নীচে ঘাপটি মেরে বসে থাকা দুটি ধারণাকে আমরা প্রশ্নের আকারে প্রকাশ করতে পারি – এক, জিডিপি বাড়া মানেই কি চাকরির সুযোগ বাড়া? দুই, চাকরি মানেই কি জীবনযাত্রার মানের উন্নতি? প্রথম প্রশ্নের উত্তর আমরা এই লেখাটিতে খুঁজব। পরের প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা হবে এর পরের লেখাটিতে।

Continue reading