’৭০-পরবর্তী বাংলা কবিতায় লিঙ্গ মতাদর্শ

নন্দিনী ধর

বছর দুয়েক আগে আমি একটি ছোট্ট কবিতার বই লিখেছিলাম। বইটির কেন্দ্রে ছিল বাইবেলের একটি বিশেষ গল্পের সমালোচনামূলক কাঁটাছেঁড়া। এবং, “ঠাকুরমার ঝুলি”র একটি বিশেষ গল্প — অরুণ-বরুণ-কিরণমালা — তার পুনর্লিখন। সজোরে বলি, এই পুনর্লিখনের ভিত্তিই ছিল একধরনের মেয়েদের জীবন এবং লিঙ্গভিত্তিক বিশ্ববীক্ষা। সেই অর্থে আমি যে খুব নতুন কাজ করেছি, এমনও নয়। পৃথিবীতে বহু লেখক-লেখিকাই প্রচলিত মিথ, মহাকাব্য, উপকথা এসমস্ত ধরে কাজ করেছেন। লিঙ্গভিত্তিক ও নারীবাদী জায়গা থেকেও এই পুনর্নির্মাণের ঐতিহ্য বিশ্বসাহিত্যে কিছু নতুন নয়। বাংলাসাহিত্যেও এই পুনর্নির্মাণের একটি লম্বা ইতিহাস রয়েছে। বইটি পড়ার পরে আমার কফিহাউসের এক দাদা, যিনি নিজেও নিয়মিত কবিতাচর্চা করে থাকেন, আমাকে সস্নেহে জিজ্ঞাসা করেন, “আচ্ছা, আরেকটু ইউনিভার্সাল কিছু নিয়ে লিখলে ভালো হত না?” প্রশ্নটা শুনে আমি একটু থমকে যাই। আমার তো ধারণা ছিল আমি সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল বিষয় নিয়েই লিখেছি। লোককথা, মিথ, রাষ্ট্র, বিদ্রোহ, দুই প্রজন্মের মধ্যেকার সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শগত বিভেদ, বিরোধ — এ সবই “ইউনিভার্সাল” বিষয়। তাহলে?

তাহলে তো প্রথমেই প্রশ্ন করতে হয়, “ইউনিভার্সাল” বা “সর্বজনীনতা” ঠিক কাকে বলে? তার সংজ্ঞা কী? “ইউনিভার্সাল” বা “সর্বজনীনতা”র বিপরীত ধারণাটি ঠিক কী? আবার, “স্পেসিফিক” বা “নির্দিষ্ট” খারাপ কেন? মানে, ধরেই নিলাম, আমি সর্বজনীন নই। কিন্তু, আমাকে কেন “ইউনিভার্সাল” লিখতে হবে? আমি “নির্দিষ্ট” রকম করে লিখলে সেটা খারাপ হতে যাবে কেন?

Continue reading