শাইন ইন্ডিয়া, শাইন

ঊর্মিমালা ব্যানার্জি‌

 

ভগবানের নির্দেশ বরাবরের মতো এবারও রাতারাতিই এল। দৈববাণী হল, “যাও বাড়ি চলে যাও, কাল থেকে বাড়ির বাইরে বেরনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।” বেসরকারি চাকরি, ট্রেনিং-এ “আজ্ঞে হ্যাঁ” বলাটাই সবথেকে জোর দিয়ে শিখিয়েছিল, কাজেই অভ্যস্ত মন বললো, একটু হুমকির মতো শুনতে লাগছে ঠিকই , কিন্তু ওপরওয়ালারা বলছে যখন নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই বলছে। দুটো খটকা ছিল বটে, এক হলো তাহলে কাল থেকে অফিস যাবার কী হবে? অফিস অবশ্য তক্ষুনি বলে দিল, ‘বাড়ী থেকে কাজ করো’, কারণ কর্মচারীদের জীবন নাকি তাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শুনে প্রথমেই ভক্তিতে বুকটা ভারি ঠেকল। তারপরেই মনে হল, কাল থেকে খাব কি? সুতরাং যথেচ্ছ চাল-ডাল-মাংস-দুধ-ওষুধপত্র ইত্যাদি কিনে বাড়ি বোঝাই হল। পকেট-পেট সামলে নিয়ে লক্ষ্মী ছেলেমেয়ের মতো ল্যাজ গুটিয়ে যে যার গর্তে সেঁধিয়ে গেলাম।

‘করোনা রাক্ষুসী আসবে, পালাও পালাও”, শ্রীমতি ব্যাঙ্গা দেবীর গলা পেয়ে বারান্দায় যাই। সকালের দিকটায় ব্যাঙ্গা দেবী আমজনতাকে দর্শন দেন ও তাদের কল্যাণার্থে কিছু মূল্যবান উপদেশ দিয়ে থাকেন। সেদিন ব্যাঙ্গার লক্ষ্য রামহরি, অর্থাৎ যিনি আমাদের কমপ্লেক্সে ময়লা ফেলেন আর যে ছেলেটি কাগজ বিলি করে। ব্যাঙ্গা তাদের বলছে, “করোনা রাক্ষুসী আসবে, তোমরা শিগগিরই বাড়ি চলে যাও, মুখ ঢেকে নাও মুখ ঢেকে নাও, তাড়াতাড়ি করো। আচ্ছা, বিপদ হলে আমায় ডেকো, কেমন? ডাকবে তো?“  এদিকে ব্যাঙ্গার অনলাইন ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। তার মা বহুবার ডেকেও কোনো ফল না পেয়ে, এবার এসে অসহযোগী ব্যাঙ্গাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে যান। ভিতরে চলে যেতে যেতেও ব্যাঙ্গা চিৎকার করে বারবার ওদের মনে করিয়ে দিতে থাকে, “ডেকো কিন্তু, ডাকবে তো?” “ডাকবে তো?” কথাটির ওপর যেন একটু বেশি জোর। যদি ডাকে, তাহলে হয়তো সে একটু বেরোতে পারে, কতদিন হয়ে গেল ব্যাঙ্গা রাস্তায় হাঁটেনি, মাঠে ছুটোছুটি করেনি, দোলনা দোলেনি, ঢেঁকি চড়েনি প্রাণ খুলে।

Continue reading