জয়াদির গন্ধবিলাস

সুস্মিতা সরকার মৈত্র

“রানাঘাটের মেয়ে। গল্প পড়তে ভালোবাসলেও গল্প লেখাটা যে বেশ চাপের কাজ সেটা লিখতে শুরু না করলে কোনোদিন বুঝতেই পারতাম না। তুলনামূলক সাহিত্যের ছাত্রী হওয়ার সুবাদে অনেকরকম গল্প টল্প তো পড়লাম, কিন্তু লেখা শুরু এক বন্ধুর গুঁতোয়। আসলেই এক ল্যাদ পাবলিক আমি। লিখতে সময় লাগে, সেটাকে ঘষামাজা করতে আরও। এর সঙ্গে আছে আমার প্রায় তিনবছরের কন্যা রত্নের নানান দাবিদাওয়া। আপাতত তার ‘কি’ সিরিজের পর ‘কেন’ সিরিজের জবাব দিতে দিতে পাগল পাগল দশা। তাই লেখালেখি বেশ অনিয়মিত।

গল্প লিখতে ভালোবাসি, পড়তে আরও বেশি। এছাড়াও ভালো লাগে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, ছবি তুলতে, রান্না করতে (রোজকার নয় যদিও!)।

আমার এই লেখা কারোর ভালো লাগলে ভালো লাগবে। আর ভালো না লাগলে কেন ভালো লাগল না সেটা জানতে পারলেও খুব ভালো লাগবে।” – সুস্মিতা

‘তোমাদের জয়াদিকে নিয়ে আর পারা যাচ্ছে না।’ ফোনটা ধরতেই ঝাঁ ঝাঁ করে বলে উঠল রাহুল।

‘কেন তোর মা কি করল আবার?’ আমার গলায় কৌতুক। রাহুলের রাগের কারণ আমি আন্দাজ করছি।

‘না, তেমন নতুন কিছু না। তবে নতুন রেজাল্ট। এবার ওনাকে হসপিটালে নিতে হয়েছে।’

‘সে কি রে! কি বলছিস তুই?’ কৌতুকের সুর নিমেষে উধাও আমার গলা থেকে। ‘কি খেয়েছে এবার? কি হয়েছে? কোন হসপিটালে?’ হুড়মুড় করে এক নিঃশ্বাসে প্রশ্নগুলো করে ফেল্লাম।

‘দাঁড়াও দাঁড়াও। এত প্রশ্ন একসঙ্গে কর না তো! তোমরা ভাইবোনগুলো না সত্যি। সব একেক রত্ন।’ রাহুলের গলায় রাগ আর ভালবাসা দুটোই ঝরে পরে।

‘পুরো ঘটনাটা খুলে বলবি তো!’

‘কাল মা বেরিয়েছিল কিছু কেনাকাটি করতে। ফেরার সময় ভাবছে চটপটা খাবারের এমন সুগন্ধ কোথা থেকে এলো? রাস্তার ধারে গাড়ি থামিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে একটা ছোট দোকানে বেসনের পকোড়া ভাজা হচ্ছে। সোনালি রঙের পকোড়া আর তার সঙ্গে লেবুর রস দিয়ে মাখা কাঁচা পেঁয়াজের সালাড আর পুদিনার চাটনি। দেখেই নাকি জিভে জল এসে গিয়েছিল মা’র। আর দেরি না করে কুড়ি টাকার বেসনের পকোড়া কিনে খেতে খেতে বাড়ি ফিরেছে। বাড়ি এসে আমাকে শেষটা সেধেছিল। আমি খাই নি বলে একটা বিশাল হাসি উপহার দিয়ে নিজেই মেরে দিল বাকিটা। আর তারপর শেষ রাত থেকে শুরু হল বমি। আজ সকালে সান্যাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। এখন বাড়ি ফিরে শুধু জল মুড়ির উপর আছে।’

‘তবে এই যে বললি হসপিটালে আছে?’

‘আরে, ডাক্তারখানা বলতে গিয়ে ভুল করে হসপিটাল বলে ফেলেছি। আর আমি তো বললাম নিতে হয়েছে, ভর্তি‌ হয়েছে কখন বললাম?’ আবার ঝাঁ ঝাঁ করে ওঠে রাহুল।

‘আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। এখন কেমন আছে জয়াদি?’

‘ঐ যে বললাম এখন শুধু জল মুড়ি খেয়ে আছে। ওষুধ পরেছে, তাই অবস্থা এখন একটু ভালো। ওষুধ খাওয়ার পর থেকে আর বমি হয় নি।’

‘আচ্ছা। জয়াদিকে বলিস বিকেলে সময় পেলে একবার যাব।’

‘ঠিক আছে, বলে দেব।’ ফোন রেখে দিল রাহুল।

জয়াদি আমার দিদি। নিজের না। জেঠতুতো। আমার নিজের দিদি নেই। তবে মনে হয় আমার নিজের দিদি থাকলেও এর থেকে বেশি নিজের হতে পারত না। আমাদের তুতো ভাইবোনরা সবাই যেন নিজের ভাই বোন এমন ভাবেই বড় হয়েছি। জয়াদি, আমি রিন্টু, অপু, সন্তু, ঘনা, নিনা।

Continue reading