আগা শাহিদ আলীর ‘The Country Without A Post Office’ থেকে ৬টি কবিতার অনুবাদ

মধুশ্রী বসু

“বেশ লেখেন আগা সাহেব। আর কাশ্মিরে বড্ড ঠান্ডা।” – মধুশ্রী

আগা শাহিদ আলীর কবিতা আগে কখনো পড়িনি। এবারে আয়নানগরের মার্চ ইস্যুতে লিখব কি লিখবনা করছি যখন, নন্দিনীদি ওদের ওখানকার লাইব্রেরি থেকে ওনার ‘The Country Without A Post Office’ বইটার একটা স্ক্যান করা পিডিএফ পাঠিয়ে বলল – ট্রান্সলেট কর। বেশ ভালো লাগল পড়ে। উনি কাশ্মির থেকে এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত সেই আমেরিকা অব্দি উজিয়ে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি করে, ওখানে শিক্ষকতা করতেন। শেষে ব্রেইন ক্যান্সার হয়ে ম্যাসাচ্যুসেটসে মারা গেলেন বছর বারো আগে। কিন্তু ওই যা হয় – মাথা থেকে কাশ্মির বার করে উঠতে পারেননি। তাই সারাজীবন ধরে কাশ্মির নিয়ে কবিতা…কবিতাগুলো তো দারুণ। আর আরও একটা ব্যাপার হলো – আমাদের বেশিরভাগের অবস্থা তো সঙ্গীন – নিজের চারদিকে গন্ডি কেটে গম্ভীর হয়ে বসে আছি আর ভাব করছি, দেশের-দশের জন্যে কি না কি একটা করে ফেলতেই পারি; এই শুধুমাত্র ভীষণ দরকারী হাতের কাজটা সেরে নিয়েই উঠেপড়ে লাগব… যাই হোক – মনটা তো খারাপ হয়ই – আর আগা শাহিদ আলীর কবিতাগুলো কেমন ঠিক ওই জায়গাটায় গিয়ে ধাক্কা দেয়। হয়ত ওঁকেও দিয়েছিল।

‘The Country Without A Post Office’ বেরিয়েছিল বোধহয় ১৯৯৭ নাগাদ। এর মধ্যে বাংলায় ট্রান্সলেট হয়েছে বলে কোথাও দেখতে পেলুমনা। বরং এইখানে দেখছি – ওনার আরও কিছু খুব সুন্দর কবিতা আছে, আর এইখানে – অমিতাভ ঘোষ একটা বেশ লেখা লিখেছেন ওঁকে নিয়ে, আর এই একটা রিভিউ

.

পবিত্র শব্দের ভূমিকা

‘সেই মুহূর্তটি ক্রমশ এগিয়ে আসছে, আর চাঁদ তখন দ্বিফালিবিভক্ত – কোরান, সুরাহ ৫৪.১

‘আমাদের দেখা হবে পুনর্বার, পিটার্সবার্গে -ওসিপ মেন্ডেলস্ট্যাম

এক নামহীন কবিতার প্রথম ছত্রের গঠনশৈলীতেই হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ ধ্বনিত হয় : কথা, যা তার খেলাপকে বহন করে – ‘আমাদের দেখা হবে পুনর্বার পিটার্সবার্গে / বুঝিবা সূর্য পুঁতে এসেছি সেখানে।’

কাশ্মিরের যে উপত্যকায় টাইটানেরা ঠাঁই নিয়েছিল, যেখানে স্যাটার্ন যেই সবে থিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যাবে, ‘তার শ্রুতিতে এক ভয় জেগে ওঠে / যেন দুর্বিপাক আসন্ন।’ সেখান থেকে, ‘যেখানে কোনো দিনই সকালবেলা ঘর থেকে বেরোবার সময় বুকে হাত রেখে বলা যায়না ফেরা হবে কি না।’ ‘আমাদের দেখা হবে পুনর্বার, শ্রীনগরে’, আমি ইরফানকে জবাব দিতে চাই। শপথ উচ্চারণ করতে চাই মেন্ডেলস্ট্যামের মখমলি আঁধারে, মিশকালো মখমল শূন্যতায়।

আমি সেই শূন্যতাকে গলা চিরে বলতে চাই, আমি পারি। আমি সেই শূন্যতায় খোদাই করি – কাশ্মির, কশ্মির, ক্যাশ্মেয়ের, কেয়াশ্মির, কাশ্মায়ার, কাশ্মেরে, কাশেমায়ার, কুশ্মিয়ার, কাচমিয়েরে, ক্যাশ্মির।  কিম্বা কশেমার – এক কাহিনীসমুদ্রে? কিম্বা কাকমীর, ক্যাষ্মীর, কাসমেরে, কাচমায়ার, কাস্মির, কার্সিমেয়ার?

পিটার্সবার্গ (বা শ্রীনগর, আমার কাছে) এক কল্পিত স্বদেশরূপে পুনর্সৃষ্ট। তার ভিতরে নিজেকে এঁটে ভর্তি করে – স্বহস্তে ছিপি বন্ধ। কেননা সেই পবিত্র শব্দ যার কোনো অর্থ নেই, সেইসব ফুল যারা কখনো শুকিয়ে যাবেনা, গোলাপ যার চ্যুতি নেই, রাত, যাকে মেন্ডেলস্ট্যাম ভয় পাননি, আর যাতে কোনো পরিচয়পত্র লাগেনা। যেখানে পবিত্র মহিলারা আজও গান গেয়ে চলেছেন।

ব্রিজের উপর পুলিশী প্রহরা আর কোকিলের স্বরের মত তীব্র গাড়ির শিস।

হয়ত একদিন সেই সময়েরা মরে যাবে আর স্নিগ্ধ নারীদের প্রিয় হাতে হাতে লঘুভার ভস্ম জড়ো হবে।

Continue reading