তরমুজ

মধুশ্রী বসু

 

প্রায় অন্ধকার মঞ্চ। অফ-সেন্টারে, ডানদিক ঘেঁষে, লাইটিং বার থেকে একটিমাত্র আলো মঞ্চের মাটিতে এক চতুর্ভুজ ক্ষেত্র কেটেছে। ক্ষেত্রের ধারগুলো যেন ভিজে ভিজে… স্যাঁতস্যাঁতে… তবু তাকেই ধরে নিতে হবে ঘর, কুঠুরি, বা কক্ষ… না, কুঠুরি বড় দম আঁটা। আচ্ছা ভালোনামে ডাকতে হলে, আলোর ঘর… বা… আলোককক্ষ। শুনতে কেমন? অবশ্য ভালো করে দেখলে অস্ফূট আলোর চারটি দেয়াল চোখে পড়ে বটে – ভূতুড়ে প্রহরীর মতো, চারকোণা ক্ষেত্রকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।

আলোককক্ষের পিছনের দিককার দেয়াল ঘেঁষে আধা-আলোকিত এক পুরুষ শরীর। তার হাতদুটো ধীরে ধীরে উপরে উঠছে, যেন থাম বেয়ে। আসলে শূন্য বেয়েই, কিন্তু হাতের তালুতে, বাহুতে, পেশীতে বস্তুস্পর্শের অনুভব স্পষ্ট… আসলে শারীরিক অভিনয়ের কূটকৌশল। যান্ত্রিক ঝিঁঝিঁদের গান বাজছে আবহে। পুরুষ শরীরটির বিপরীতে ওই আলোর ঘেরাটোপের মধ্যেই রাখা একটি গোল টেবিল ল্যাম্প। তাতে জ্বলছে লাল আলো, যেন খোসা উপড়ে নেওয়া তরমুজ। তরমুজ কাটলে কেমন ঝিলমিল ঝিলমিল করে না? ঝিলমিল… খসখস… এদিকে পুরুষটির মুখ দেখা যায় না। কারণ মঞ্চে তার দাঁড়াবার জায়গাটিই এমন বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে মুখে আলো না ধরে। তবু সেই মুখের গোটা জায়গাটা জুড়ে যে অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে, সেই অন্ধকারের নীচে আরো জমাট, আরো ওজনদার এক নতুন অন্ধকার পরিসীমা পাচ্ছে, ক্ষেত্রফলে বেড়ে উঠছে, খুলে যাচ্ছে গহ্বরমুখ…

Continue reading