মুসলমানের কিসসা

রাণা আলম

ওজন বিরাশি কেজি। প্রিয় খাদ্য পেঁয়াজি আর ডালপুরি। কপাল দোষে প্রেমিকার নাম সায়ন্তিকা। বাড়ি মুর্শিদাবাদ।পেশায় স্কুল শিক্ষক। নেশায় লিটল ম্যাগ কর্মী।

বিঃ দ্রঃ- চোখে পড়ার মতন ভুঁড়ি আছে।

‘তারপর একটা বোরখা পরা লোক পুলিশের ভ্যান থেকে নেমে আসে। গ্রামের সমস্ত জোয়ান মদ্দদের তার সামনে প্যারেড করানো হয়। বোরখা পরা লোকটা যার দিকে আঙ্গুল তোলে আর্মি তাকে তুলে নিয়ে যায়। কিসের অপরাধে তা জানা যায় না। কোনো উকিল দলিল থাকেনা। কোনো প্রমাণ থাকেনা। সে আর ফেরত আসেনা। জলজ্যান্ত একটা মানুষ ভ্যানিস হয়ে যায়। সে যে ছিল, বাস্তবে তারই কোনো প্রমাণ থাকেনা।’

একটা বারো-তেরো বছরের ছেলে গল্প শুনছে তার বাকি ভাই বোনেদের সাথে। সালটা ১৯৯৭। তারই এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়া ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এক কাশ্মীরী শাল বিক্রেতাকে। বিয়ের পর তিনি কাশ্মীর চলে যান। বেশ কবছর পর স্বামী আর দুই সন্তান কে নিয়ে তাঁরা কাশ্মীর ছেড়ে চলে আসেন। তাদেরই গল্প।

বক্তা শেষ করেন, ‘কাশ্মীরে মুসলমান হওয়ার জন্যই এত অত্যচার হয়’।

বারো-তেরোর ছেলেটার শিরদাঁড়া দিয়ে তখন ভয়ের স্রোত নেমে যায়।

এর অনেক বছর পরে যখন বছর তিরিশের ছেলেটা বিশাল ভরদ্বাজের হায়দর দেখতে যায়। সেই নব্বইএর কাশ্মীর। পুলিশের ভ্যানে বোরখা পরা লোক।সামনে দিয়ে গ্রামের জোয়ান মদ্দরা প্যারেড করে যাচ্ছে। বোরখা পরা লোকটা যার দিকে তাকিয়ে হর্ন বাজালো, আর্মি তাকেই তুলে নিয়ে গেলো। কিসের অপরাধে তা জানা গেলো না। কোনো উকিল দলিল নেই। কোনো প্রমাণ থাকলো না। সে আর ফেরত আসেনা। জলজ্যান্ত একটা মানুষ ভ্যানিস হয়ে যায়।

পুরোনো ভয় লাগাটা আরেকবার ফেরত আসে। নুইয়ে পড়া শিঁরদাঁড়ায় আরেকবার ভয়ের স্রোত নেমে যায়।

আগেরমতই ‘মুসলমান’ ছেলেটার সামনে ধর্ম দিয়ে শত্রু আর বন্ধু খোঁজার পুরোনো খেলাটা উঁকি দেয়।

Continue reading