জ্ঞাতব্য

নন্দিনী ধর

 

একতলার ফ্ল্যাটটার জন্য ভাড়াটে খুঁজছে বাবা মা। ওই ফ্ল্যাটটা ভাড়াই দেওয়া হয়। মিঠাই জন্ম ইস্তক এমনটাই দেখে আসছে। আসলে ওই ফ্ল্যাটটার মালকিন পিসি। এই বাড়িটা ওভাবেই বানিয়েছিল দাদু ঠাকুমা। দুই ছেলেমেয়ে, দুটো ফ্ল্যাট। একই বাড়ি ওপরে আর নিচে। “একটু একটু করে, অল্প অল্প করে। টাকা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে।” একসাথে হলেই বলে বাবা আর পিসি দুজনেই। পিসি থাকে ব্যাঙ্গালোরে। ওখানেই চাকরি করে। পিসেমশাইও। “ছেলেমেয়ের ঘাড়ে গলগ্রহ হবো না কোনোদিন,” বলে দাদু-ঠাকুমা নিজেরাই চলে গেলো বারুইপুরের দিকে বৃদ্ধাশ্রমে। মাসে একবার সেখানে মিঠাই যায় মাবাবার সাথে। গাড়ি করে সেদিন ঘোরা হয় প্রচুর। যাইহোক, এই ফ্ল্যাটটার সব দায়দায়িত্বই বাবার। পিসি মাথাও ঘামায় না। এমনকি ভাড়াটা পর্যন্ত নেয় না।

এইখানে, মিঠাই যখন ছোট, তখন ছিল বাসবকাকু আর শর্মিষ্ঠা কাকিমা। ওরা নাকি নিজেদের ফ্লাট কিনে উঠে গেছে। এরপরে এলো দেবাশীষদাদা আর সৌম্যদাদা। ডাক্তারি পড়তো ওরা। ওদের সঙ্গে প্রায় রোজ দেখা করতে আসত জয়ীদিদি, ঊর্মিদিদি। ওরাও ডাক্তারি পড়ত। আরও আরও দাদাদিদিরাও আসতো। তারাও নাকি সবাই ডাক্তারি পড়ত।

যে মাস পাঁচেক ওরা এখানে ছিল, মিঠাইয়ের খুব মজা হতো। ওই জয়ীদিদির ল্যাপটপেই তো মিঠাই দেখেছিলো ‘মাই নেবার তোতোরো’, ‘হোয়েল রাইডার’, আরও কত কি! সিনেমা, কার্টুন, মিউজিক ভিডিও। ঊর্মিদিদি ছবি আঁকা শেখাত ওকে। কেমন করে ছোট ডিম আর বড়ো ডিম জুড়ে হয় টিয়াপাখি। মাও প্রায়ই অফিস থেকে ফিরে নীচে যেত। সৌম্যদাদা চা বানিয়ে দিত মাকে।

“এই যে সৌম্য, তুই আমাকে চা বানিয়ে দিস, তার জন্য তোর কেনা গোলাম হয়ে থাকতে পারি রে,” মা বলত সৌম্যদাদাকে।

“শ্রাবণীদি,আবার ন্যাকামো?” সৌম্যদাদা বলত।

Continue reading