মহাগ্রন্থ

নার্গিস পারভিন

 

সকাল প্রায় এগারোটা হতে চলল। ব্যালকনিতে রোদটা তীব্র হচ্ছে দেখে, সালমা বেগম আলমারি থেকে সযত্নে সংরক্ষিত পুরনো দুটো কাঁথা বার করলেন। রোদে দেবেন। তাঁর দাদীর আমলের, মায়ের আমলের জিনিস! এসব এখন আর দেখা যায় না। কত দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে তবে এমন সূচিশিল্প গড়ে উঠতে পারে! সালমা বেগম কাঁথাগুলো মাঝেমাঝেই বের করে দেখেন, অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন। মিহি, নরম, ধপধপে সাদা কাপড়ের উপর নানা রঙের সুতো দিয়ে এত সূক্ষ্ম সেলাই! গাছের লতা, ফুল, পাখি! মায়ের হাতের বানানো কাঁথাটা আবার অন্য আর এক রকমের নকশা। অনেকটা জ্যামিতির ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ আর রম্বস মনে হয়! মা তো এসব জানত না। বলত তিনকোনা, চারকোনা। দুটো কাঁথা যেন দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি। সালমা কাঁথাটার ওপর মোলায়েমভাবে হাত বোলাতে থাকেন। যেন তাঁর মায়ের গায়ে হাত বোলাচ্ছেন।

ইম্মু এতক্ষণ তার নানুর সঙ্গে বকবক করছিল পাশের ঘরে। নানীআম্মাকে খুঁজতে এসে কাঁথাগুলো দেখে অবাক।

‘নানীআম্মা এগুলো কী গো? ব্ল্যাঙ্কেট? কী সুন্দর! কালারফুল!

নানীআম্মা বলেন, ‘এটা হল কাঁথা।’

ন বছরের ইম্মু বলে ওঠে, ‘আই সী!’

Continue reading