যার খেলা সে জানে

নীতা মণ্ডল

 

‘দেখ বাবা দু’পক্ষই যদি গোঁ ধরে থাকিস তাহলে তো কাজ হয় না। একপক্ষ পেছিয়ে এলেই তো মিটে যায়। আর তাছাড়া গাঁয়ের মানুষ দু’দিন ধরে দেখবে তোদের যাত্রা, যেমন এতকাল দেখছে।’

গলা নরম করে শেষবারের মত বলল রাখাল মণ্ডল। বয়ঃজ্যেষ্ঠ মানুষ। এককালে পঞ্চায়েতের মেম্বার ছিল। লোকে মান্যিগন্যিও করত। এখনও করে বলেই তার ধারণা। ঘণ্টা খানেকের ঝগড়াঝাটিতে পরিবেশ উত্তপ্ত হলেও মাথা ঠান্ডা রাখাল মন্ডলের। পাঁচজনের কাজে জলঘোলা হয় ঠিকই কিন্তু তা কীভাবে সামাল দিতে হয় তা পোর খাওয়া রাখাল মণ্ডল ভালো জানে। যার যা বলতে ইচ্ছে করে, বলতে দেয়। কেউ লম্ফঝম্প করে, কেউ গালমন্দ করে, করতে দেয়। কেউ আবার পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটে, ঘাঁটতে দেয়। সবটা ধৈর্য ধরে দেখে শুনে শেষ নিদানটা ওই হাঁকে। এসব সে কোন কাল থেকে করে আসছে! এসব ঝগড়াঝাটি পল্লীজীবনের অঙ্গ। ভাইয়ে ভাইয়ে, জ্ঞাতিতে গুষ্টিতে, পাড়ায় পাড়ায় নানা স্তরের ঝগড়ার মিটমাট করতে করতে চুল পাকিয়েছে রাখাল। এরা আজ ঝগড়া করে, কাল আবার গলাগলি করে। আবার গলাগলি করতে করতে কখন মারামারি লেগে যায় ঠিক নাই। তবুও সে মিটমাট করতে যায়। এসব মীমাংসার ভেতর দিয়েই যে তার সামাজিক উত্থান ও প্রতিষ্ঠা তা কখনও ভোলে না রাখাল। তাই এসব ব্যাপারকে সে হেলাফেলা করে না।

ঝগড়া হচ্ছিল জেলেপাড়া আর বায়েনপাড়ার মধ্যে। জেলেপাড়ার রামু আর বায়েনপাড়ার শিবুর তেজে গগন ফাটছিল। দোহারের কাজ করছিল যার যার পাড়ার ছেলেরা। দুই দলই তুল্যমূল্য।

Continue reading