ভয়ের কবিতা

সারা বসু, জয়লিপি দত্ত, জয়ন্তী বসু, নন্দিনী ধর, কুন্তল মিত্র, মধুশ্রী বসু

bhoy

আয়নানগর থেকে যৌথভাবে লেখালেখির প্রথম প্রয়াস—‘ভয়ের কবিতা’। কথাটা শুনতে খানিকটা মাসিক কিশোর পত্রিকার ভূত সংখ্যার মতন বটে, কিন্তু এর মধ্যে আরও একটু ব্যাপার আছে।

একটি নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক লেখা হলেও এক্ষেত্রে বিষয়ের চাইতে একসাথে লেখাটাই ছিলো জোরের জায়গা। একভাবে দেখলে, এটা ছিলো আমাদের একটা খেলা। কয়েকজন মানুষের একত্রিত হবার, পরস্পরকে এবং নিজেদেরকে জানবার খেলা। আবার আরেকভাবে দেখলে এটা ছিলো নিজেকে এবং পরস্পরকে নানান স্বভাবের, অভ্যাসের, অনিচ্ছার এবং হতাশার স্নিগ্ধ খোলস থেকে বার করে আনবার, চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবার একটা মৃদু চেষ্টা। ‘বিগ ব্রাদার’-এর মতো একে অন্যের ঘাড়ে চড়ে নয়—যদিও সেটাও একটা পদ্ধতি হতে পারতো। কিন্তু এই একটা অদ্ভুত সময়ে দাঁড়িয়ে—যখন বাইরের পৃথিবী হামেশাই নানা চেহারায় আমাদের একা পেলেই ভয় পাওয়াবার চেষ্টা করে চলেছে—আমরা তখন সচেতনভাবে এবং সপ্রেমে ছুঁতে চাইছিলাম যৌথতাকে। আবার এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যখন আমাদের মতো গড়পড়তা মানুষ জেনে বা না জেনেই “সকলে প্রত্যেকে একা”, প্রায়ই যখন তারা “কথা বলে কথা না শুনে, কথা শোনে কথা না শুনে”, তখন একা-একাই দারুণ সব কবিতা লিখে ফেলার চাইতে পরস্পরকে শোনাটার ভিতর আমরা অনেক বেশি মজা পাচ্ছিলাম।

তা বলে বিষয় এক্ষেত্রে পুরোপুরি গৌণ নয়। সাম্প্রতিককালের একটি বড় অংশের বাংলা কাব্যে প্রেম-পরকীয়ার যন্ত্রণা-উদ্বেগের আধিক্যে ক্লান্ত কবিতাপাঠক হিসেবে আমরা খুঁজছিলাম একটি অন্যরকমের ‘রস’। সারা—আমাদের কবি সারা বসু—এই খেলার ছয় খেলুড়ির একজন বললো—‘ভয়’ নিয়ে লেখা যাক। তা সেটাই টিঁকে গেলো। লিখতে লিখতে ক্রমশ আমরা শুধু কবিতা এবং যৌথতার ধারণাগুলিকে নয়, ‘ভয়’—এই বিশেষ অনুভূতিটিকেও নানাভাবে দেখতে শুরু করি। সেই দেখা আর পরস্পরের দেখা নিয়ে ভাবনাচিন্তাও তখন খেলার অংশ হয়ে ওঠে।

আড্ডা দিতে দিতে এই যৌথ খেলার কথা মাথায় এসেছিলো। আবার আড্ডা দিতে দিতেই একদিন খেলা শেষও হয়ে গেলো। কিন্তু খেলা থেকে যা প্রাপ্তি—সেগুলো খেলার সাথে সাথে ফুরিয়ে গেলো না। বিশেষত যেহেতু দল কখন যূথবদ্ধ গোষ্ঠী হয়ে ওঠে, যৌথতা কোন পথে হয়ে ওঠে সাম্য ও বন্ধুত্ব—এসবের সারল্য-জটিলতা নিয়েই আয়নানগর। কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ-শিল্প-প্রচার—এসবের জন্যে তো রয়েছে অন্য আরও নানান ক্ষেত্র।

আপাতত, কবিতাগুলির শেষে সেইসব ইমেল-আড্ডারও কিছু কিছু অংশ এখানে তুলে দিলাম।

Continue reading