প্রিয় তমঃ

মিত্রাভ ব্যানার্জি‌

মস্তিষ্ক কোষে কাহিনীটির অভ্যুদয় বেশ কিছু বছর আগে শাহবাগের গতিপ্রাপ্তি বা সেহবাগের অবসর ঘোষণা উভয়ই তখন দূরঅস্ত। মুক্তিমনাদের গলার নলী তখনো অক্ষত তখন আমার উত্তরভারত বা দাক্ষিণাত্য নিয়ে অস্বস্তি তুঙ্গে এমতবস্থায় আমার কতিপয় বাংলাদেশী বাঙালী সহকর্মীদের মধ্যে জনৈক হতভাগ্য আমার আত্মীয়তা এবং বিচার প্রত্যাখ্যান করেন ধর্মীয় সংস্কারে ভাষার বন্ধনে ধর্মের দংশনদাগপ্রকট হলো ব্যস! শালা আইউবের দালাল টিক্কা খানের কুত্তা মিটে গেল

এই ঘটনার কিছুদিন পরে স্রেফ ভাষার, শুধুমাত্র সংস্কৃতির অধিকারে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুম্বনের অবশিষ্ট উম্মীদ হাওয়ায় হারিয়ে যায় যখন আমার পাঁজরের তটে বসবাসকারী সমবয়ষ্ক সমভাষী কিছু মানুষ আমার ঢাকা, আমার মুজিব, আমার চট্টগ্রামের নামে থুতু ফেললে। বললে বেশ্যার জাত। তখনো (এইখানে হাসতে হতো জনাব) তখনও কিন্তু মুক্তিমনাদের অন্ত্রে তপ্ত শলাকা ঢোকানোর দেরী আছে।

এই পরিচ্ছেদ লেখার দিন ফরিদাবাদে ১১ বছর আর ছয় মাসের দুটি শিশু দলিত হওয়ার অপরাধে দগ্ধ। গুরু গ্রন্থসাহিবের পৃষ্ঠা কর্তণের সুবাদে পঞ্জাবে প্যারামিলিটারি নেমে পড়েছে। জম্মু তে গোহত্যার গুজবে খুন – দাঙ্গা – কারফিউ। যারা খুন করল, আগুন দিল, তারা সবাই সমদেশীয়, সম কৃষ্টিজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমভাষী।

আজকেই ভ্লাদিমির,  আসাদ বিরোধী বিপ্লবীদের বোমা মেরে ছত্রভঙ্গ করে দয়াময় ভিন্নভাষী আসাদের হাতে হাত গুঁজে সহাস্য ছবি ছেপেছেন। ভারত জাপান আমেরিকা (ফিসফিসিয়ে বলুন চীন বিরোধি) নৌমহড়ায় মত্ত। আর সেই সময়েই চীনের ইশকুলে ইশকুলে আফিম যুদ্ধে চিং সাম্রাজ্যের পতনে ব্রিটেনের কালোহাতের ইশতেহার আর ব্রিটেন জোড়া চীনের মানবিকতা লঙ্ঘনের তোপ দাগার দুরত্ত্ব অতিক্রম করে দুই দেশের মহামহিমদের প্রেমালিঙ্গন। এই ঐক্য বা ভিন্নতা আর তার থেকে জন্মানো এই ক্রোধ, ঘৃণা কিসের ভিত্তিতে? ধর্ম নয়, সংস্কৃতি নয় বন্ধু। ভিত জানবেন বরং আরো, আরো অন্তরে নিহিত উচ্চাকাঙ্খার।   

এই কাহিনী ম্যান্ডারীনের ঢালের নিচে লুকোন ভীরু ছদ্ম-কম্যুনিজমের পটভূমিকায় হতে পারত। রুশকি-ইউক্রেনীয়ান সামঞ্জস্যের বুকে পা রেখে এদিকে ক্রিমিয়া, দানেতস্ক দখল, অন্যদিকে ওদেসায় বাড়িভর্তি রুশ সৈন্যকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে মারার উল্লাসের পটভুমিকায় বা ফরাসি ছুঁড়ে ফেলে ফার্সি বর্মের আড়ালে শিয়া আগ্রাসনের।

এক্ষণে আমার শহর ক্লেদ, মৃত্যু, ক্ষুধা, ধর্ষন, প্রতারণা ভুলে শারদ উৎসবের আলোয় আলোয় অন্ধ। 

দৃষ্টি মুবারক !” – মিত্রাভ

এখন সুসময়, এখন পৃথিবী নিস্পন্দন, আজ ঢেউ ফিরে গেছে।

সকাল বেলা আর পাঁচটা খবরের মাঝে একটা খবর ইমনের কানে বাজল। ‘সদ্যোজাত শিশুরা বড়দের থেকে বেশী ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই ইন্দ্রিয়ের প্রখরতা আগেও ছিলো নাকি বিগত বহু বছরের বংশানুক্রমিক অন্ধত্ত্বের ফলে ইদানিং দেখা দিচ্ছে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সুনিশ্চিত নন। এই বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য মেহেদিকে পাওয়া যায়নি’। বাঁ হাতে টেবিলে রাখা টাইমস্পীকে হাত ছোঁয়াতে জোনাথন হারকার বলল ‘আটটা ছাব্বিশ’। জোনাথন ইমনের প্রিয় কোন চরিত্র না। ছোটবেলা একবার মাত্র সে ড্রাকুলা শুনেছিলো। জোনাথনের কন্ঠটি স্টোরে ফ্রি। এটা যে জোনাথনেরই কন্ঠ সেটাও স্টোরে বলা না থাকলে সে মনে করতে পারত না। আটটা ছাব্বিশ। এই বার চায়ের আশা করাই যায়। জিনি এতক্ষণে উঠে পড়েছে নিশ্চই। ইমন জিনিকে ডাকবে, না ডাকবেনা সেই দোনামনার মাঝেই প্রক্সি ট্রে র আওয়াজ পাওয়া গেল। চা আসছে। ট্রেটা কদিন ধরে ভোগাচ্ছে। রান্না ঘর থেকে চালু হয় ঠিক, কিন্তু কখনোই সঠিক জায়গায় থামতে চায় না। কখনো চৌকো বোতামে শোবার ঘরের বদলে বসার ঘরে হাজির হয়, কখনো গোল বোতামে বসার ঘরের বদলে গ্যারাজের দরজায় গিয়ে ঠোক্কর খায়। আজকেও সেন্টার টেবিলে যেখানে ট্রের স্টপ সেন্সর লাগানো আছে তার চেয়ে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে ট্রেটা থামল। ইমন হাত বাড়িয়ে চা বা চায়ের ট্রে কোনোটিরই হদিস পেল না। চায়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু চা অধরা। অগত্যা ইমন অসহায় হাঁক পাড়ল

জিনি!

পাওনি?

কাছেই আছে কোথাও, বাজাও একবার।

Continue reading